ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ধুলায় মলিন রেলের শতবর্ষী সরঞ্জামাদি

সৌজন্যে: ডেইলি স্টার

প্রকাশ: ১৫:৫৪, ৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৫৪, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ধুলায় মলিন রেলের শতবর্ষী সরঞ্জামাদি

ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলায় প্রথম দিকে যেসব শহরে রেল যোগাযোগ চালু হয়েছিল, ময়মনসিংহ তার ভেতর অন্যতম।

১৮৮৬ সালে নারায়ণগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে। মূলত উত্তরবঙ্গ থেকে নারায়ণগঞ্জ বন্দরে নিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীপথে পাট রপ্তানির উদ্দেশ্যে এ রেললাইন স্থাপন করা হয়েছিল।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ময়মনসিংহের গৌরীপুর, জামালপুর, কিশোরগঞ্জের ভৈরব ও নেত্রকোণার দিকে এই রেলপথের শাখা সম্প্রসারিত হয়।

Image

MR 2
ছবি: স্টার

প্রায় ১৪০ বছর পরেও ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন রেলস্টেশনে ব্রিটিশ আমলে ব্যবহৃত অনেক ঐতিহ্যবাহী সরঞ্জাম পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

২০১৪ সালে কম্পিউটারভিত্তিক ইন্টারলক (সিবিআই) রেলওয়ে সংকেতব্যবস্থা চালুর পর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর আগে ব্রিটিশ আমলের নিল টোকেন ইন্টারলক (এনটিআই) ব্যবস্থা দিয়েই পরিচালিত হতো রেলের কার্যক্রম।

রেলওয়ের এসব পুরোনো সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত আসবাব, বাতি (ল্যাম্প), ঘড়ি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি, যেগুলো এখন আর সচরাচর দেখা যায় না। বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থেকে এরইমধ্যে অনেক সরঞ্জাম হারিয়ে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Image

ছবি: স্টার
ছবি: স্টার

সম্প্রতি ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে জানালার রডে ঝুলতে দেখা যায় কয়েকটি হ্যান্ড ল্যাম্প ও টেইল ল্যাম্প। সেগুলোর গায়ে জমেছে পুরু ধুলার স্তর।

স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল্লাহ আল হারুন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাতিগুলো এখনো ব্যবহারযোগ্য এবং ভালো অবস্থায় রয়েছে। তবে ২০১৪ সাল থেকে সেগুলো আর ব্যবহার করা হচ্ছে না।’

ব্রিটিশ আমলে রেললাইনে ট্রেন চলাচলের অনুমতি দিতে ব্যবহৃত ‘ব্লক ইনস্ট্রুমেন্ট’ এখনো রয়েছে বিভিন্ন স্টেশনে। সেগুলোও আর কাজে লাগানো হয় না বলে জানিয়েছেন জামালপুরের মেলান্দহ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার শেখ উজ্জ্বল মাহমুদ।

Image

ছবি: স্টার
ছবি: স্টার

তিনি জানান, ২০২২ সালে জামালপুর কোর্ট ও দুরমুট স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এ ধরনের দুটি যন্ত্র মেলান্দহ স্টেশনে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফিল্ড অফিসার সাবিনা ইয়াসমিন ডেইলি স্টারকে বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে তারা এসব ঐতিহ্যবাহী সরঞ্জাম সংগ্রহ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেবেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন