ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশ রেলওয়ের ঐতিহ্য নিয়ে স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ, মন্ত্রণালয়ে কমিটির সভা

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩:১০, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:১১, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ের ঐতিহ্য নিয়ে স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ, মন্ত্রণালয়ে কমিটির সভা

বাংলাদেশ রেলওয়ের দীর্ঘদিনের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় পথচলাকে সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের ঐতিহ্য বিষয়ক স্মারক গ্রন্থ প্রকাশনা কমিটি’র সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাজধানীর রেলভবনে অবস্থিত রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষ (কক্ষ নং-১০২৪)-এ আয়োজিত এ সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সভার মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশ রেলওয়ের ঐতিহ্যবিষয়ক স্মারক গ্রন্থ প্রকাশনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের যোগাযোগব্যবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ব্যবসা-বাণিজ্য, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ব্রিটিশ আমলে রেল যোগাযোগের সূচনা থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল এবং স্বাধীন বাংলাদেশের রেলওয়ের ক্রমবিকাশ—প্রতিটি পর্যায়েই রয়েছে নানা ঐতিহাসিক ঘটনা, গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ও পরিবর্তনের ইতিহাস। রেলওয়ের এই দীর্ঘ পথচলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিল্প-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের নানা অধ্যায়।

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঐতিহ্যবিষয়ক স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগকে রেলওয়ের ইতিহাস ও ঐতিহাসিক অর্জন সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রকাশনার মাধ্যমে রেলওয়ের অতীত ইতিহাস, ঐতিহাসিক স্থাপনা, রেলপথ সম্প্রসারণ, গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতু, স্টেশন, ইঞ্জিন ও কোচের বিবর্তন এবং রেল যোগাযোগের বিকাশসংক্রান্ত তথ্য ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

স্মারক গ্রন্থটি যথাযথভাবে প্রকাশের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, নির্ভরযোগ্য দলিলপত্র যাচাই, পুরোনো আলোকচিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ এবং রেলওয়ের ঐতিহ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য সন্নিবেশের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। পাশাপাশি রেলওয়ের অতীত ও বর্তমানের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভাপতি হিসেবে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ স্মারক গ্রন্থ প্রকাশনার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে।

তবে সভায় গৃহীত নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত, স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের সম্ভাব্য সময়সীমা, প্রকাশনার বিষয়বস্তু এবং পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ঐতিহ্যবিষয়ক স্মারক গ্রন্থ প্রকাশিত হলে তা রেলওয়ের ইতিহাস সংরক্ষণ, ঐতিহাসিক তথ্যের প্রামাণ্য দলিল তৈরি এবং দেশের রেল যোগাযোগব্যবস্থার ক্রমবিকাশ সম্পর্কে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে রেলওয়ের অতীত অর্জন ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করার ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন