শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭:২৮, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০৭:২৮, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: মোতাহার হোসেন সরকার
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কেনা ৩০টি লোকোমোটিভের বড় একটি অংশ চার বছরের মধ্যে কার্যকারিতা হারিয়েছে। অথচ এই ইঞ্জিনগুলোর আয়ুষ্কাল ২০ বছর হওয়ার কথা ছিল।
এই ইঞ্জিনগুলো সচল করা এবং আরও ৪০টি ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানির সঙ্গে প্রায় ৬৮০ কোটি টাকার তিন বছর মেয়াদি চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
সংকট ও প্রভাব রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, হুন্দাই রোটেমের তৈরি এসব ইঞ্জিন ২০২২ সালে চালুর পর থেকেই নানা ত্রুটির মুখে পড়ে। ২০২৩ সালে ১টি, পরের বছর আরও ৪টি এবং ২০২৫ সালে ১০টি ইঞ্জিন অচল হয়ে যায়। সর্বশেষ চলতি বছরের জুন নাগাদ অচল ইঞ্জিনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮টিতে।
প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের সংকট এবং প্রস্তুতকারক কোম্পানির কারিগরি সহায়তা বন্ধ থাকায় রেলওয়ের নিজস্ব কর্মীরা এগুলো ঠিক রাখতে পারছেন না। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ট্রেন চলাচলে। পূর্বাঞ্চলে কনটেইনারবাহী ট্রেনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে নিয়মিত আটটি কনটেইনার ট্রেনের জায়গায় এখন চলছে মাত্র দুটি। এছাড়া ঢাকা-নোয়াখালীসহ বিভিন্ন রুটে পাঁচটি যাত্রীবাহী ট্রেনও বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি শিডিউল বিপর্যয়ে পড়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সোনার বাংলা এক্সপ্রেস।
মেরামতে জটিলতা কেন? সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মতে, আধুনিক এসব ইঞ্জিন মেরামতের জন্য নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ও কম্পিউটারভিত্তিক ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। তাছাড়া অনেক যন্ত্রাংশ কেবল নির্দিষ্ট প্রস্তুতকারকের কাছ থেকেই সংগ্রহ করতে হয়। হুন্দাই রোটেমের সঙ্গে ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এবং তাদের কারিগরি দল বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার পর থেকেই মূলত বিপাকে পড়ে রেলওয়ে।
প্রস্তাবিত চুক্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'প্রগ্রেস রেল'-এর সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের একটি স্থানীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে এই সেবা দেওয়া হবে। প্রস্তাবিত বাজেটের বড় অংশই খরচ হবে যন্ত্রপাতির পেছনে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের আশা, এই চুক্তি বাস্তবায়ন হলে ৭০টি ইঞ্জিনের কার্যকারিতা প্রায় ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হবে। তবে এর জন্য অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় ক্রয়ের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত ছিল।