ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

১ কার্তিক ১৪৩৩

জার্মানির ৫,৭০০ রেলস্টেশনে মদ্যপানে নিষেধাজ্ঞা, কার্যকর নতুন নিয়ম

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২১:০৩, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২১:০৪, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

জার্মানির ৫,৭০০ রেলস্টেশনে মদ্যপানে নিষেধাজ্ঞা, কার্যকর নতুন নিয়ম

রেলস্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে জার্মানির রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা ডয়চে বান। দেশটির প্রায় ৫ হাজার ৭০০ রেলস্টেশনে মদ্যপান নিষিদ্ধ করে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, শুধু স্টেশন ভবন নয়, সব রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মেও মদ্যপান করা যাবে না। স্টেশনে বিশৃঙ্খলা, ময়লা-আবর্জনা এবং যাত্রীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি কমানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

তবে নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে স্টেশন প্রাঙ্গণের পাব, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য অনুমোদিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব স্থানে আগের মতোই অ্যালকোহল বিক্রি ও পরিবেশন করা যাবে। একইভাবে দূরপাল্লার অনেক ট্রেনে খাবার পরিবেশনের অংশে বিয়ারসহ বিভিন্ন পানীয় বিক্রির ব্যবস্থাও চালু থাকবে।

ফুটবল সমর্থকদের যাতায়াতে বদল আসতে পারে

নতুন নিয়মের কারণে জার্মানির ফুটবল সমর্থকদের একটি পরিচিত অভ্যাসে পরিবর্তন আসতে পারে। বুন্দেসলিগার ম্যাচ দেখতে দলবদ্ধভাবে ট্রেনে যাতায়াতের সময় অনেক সমর্থক স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে মদ্যপান করতেন। নিষেধাজ্ঞার ফলে এখন তাঁদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই কঠোর সিদ্ধান্ত

রেলস্টেশনগুলোতে অ্যালকোহলকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা ও সহিংসতা কমানোর বিষয়টি নিয়ে জার্মানিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। সাম্প্রতিক দুটি গুরুতর ঘটনা এ বিষয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

এক ঘটনায় মদ্যপ এক যাত্রীর টিকিট পরীক্ষা করতে গিয়ে হামলার শিকার হন ডয়চে বানের একজন নিরাপত্তাকর্মী। তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তির সময় ট্রেনের দরজা খুলে যায়। একপর্যায়ে ট্রেন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন ওই কর্মী।

অন্য একটি ঘটনায় চলতি বছরের শুরুতে টিকিটবিহীন এক ব্যক্তির হামলায় প্রাণ হারান ট্রেনের একজন কন্ডাক্টর। এসব ঘটনার পর রেলস্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণের দাবি আরও গুরুত্ব পায়।

পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ইতিবাচক ফলের দাবি

সারা দেশে নিয়মটি কার্যকরের আগে জার্মানির প্রায় ৪০টি স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে নিষেধাজ্ঞা চালু করা হয়েছিল। পরীক্ষার আওতায় কোলন, মিউনিখ, হামবুর্গ ও বার্লিনের মতো বড় শহরের স্টেশনও ছিল।

ডয়চে বানের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে স্টেশনগুলোর পরিবেশ তুলনামূলক শান্ত ছিল এবং আবর্জনার পরিমাণও কমেছিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, যাত্রীদের জন্য আরও নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করতেই দেশজুড়ে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গৃহহীন মানুষের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

নতুন নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এর সামাজিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গৃহহীন মানুষদের নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, মদ্যপানে আসক্ত অনেক গৃহহীন ব্যক্তির জন্য রেলস্টেশন আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে প্রতিকূল আবহাওয়ায় তাঁদের অনেকে সেখানে অবস্থান করেন।

জার্মান সংবাদপত্র রাইনিশে পোস্ট-কে দেওয়া বক্তব্যে সংগঠনটির এক মুখপাত্র জানান, স্টেশন থেকে গৃহহীন মানুষদের সরিয়ে দেওয়া হলে সমাজকর্মীদের পক্ষে তাঁদের খুঁজে বের করা ও সহায়তা দেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, জার্মানির রেলস্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে চালু হয়েছে নতুন বিধিনিষেধ। তবে এর ফলে যাত্রীদের অভ্যাসের পাশাপাশি গৃহহীন ও মদ্যপানে আসক্ত মানুষের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন