ঢাকা, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

ডেমু পুনরায় সচলের উদ্যোগ সম্প্রসারণ হচ্ছে কমিউটার ট্রেন

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯:৪৪, ৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৪৪, ৩ জুলাই ২০২৬

ডেমু পুনরায় সচলের উদ্যোগ সম্প্রসারণ হচ্ছে কমিউটার ট্রেন

রাজধানীর যানজট সমস্যা ও প্রতিদিনের মানুষের ভোগান্তি এবং আশপাশের জেলার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ এবং ভাঙ্গাসহ রাজধানী সংলগ্ন বিভিন্ন অঞ্চলে কমিউটার ট্রেন সার্ভিস সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আশপাশের জেলার বাসিন্দারা প্রতিদিন সকালে ট্রেনে ঢাকায় এসে কর্মস্থলে যোগ দিতে এবং দিনের কাজ শেষে বিকেলে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে পারবেন।


একই সঙ্গে দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় পড়ে থাকা ডেমু ট্রেনগুলোর ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়েও নতুনভাবে ভাবছে সরকার। সরকারি ব্যবস্থাপনায় মেরামতের পরিবর্তে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব ট্রেন সচল করার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। একসময় নগর ও শহরতলির যাত্রী পরিবহনের জন্য আমদানি করা হয়েছিল ডেমু ট্রেন। কিন্তু বিভিন্ন কারিগরি সমস্যা, যন্ত্রাংশের সঙ্কট এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ডেমু ট্রেন অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এসব ট্রেন রেলওয়ের বিভিন্ন ইয়ার্ডে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনকে আরও বাণিজ্যিকভাবে উন্নত করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। যাত্রীসেবার পাশাপাশি স্টেশনগুলোকে অর্থনৈতিক কর্মকা-ের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যের কেন্দ্র রাজধানী ঢাকা। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় প্রবেশ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ এবং ফরিদপুর অঞ্চলের ভাঙ্গাসহ আশপাশের জেলার বাসিন্দা। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ বাস, লেগুনা, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি অপচয়, পরিবেশ দূষণ এবং অর্থনৈতিক ক্ষতিও বাড়ছে। সরকার রাজধানীকে ঘিরে একটি কার্যকর কমিউটার রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। এতে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দ্রুতগতির কমিউটার ট্রেন চলবে, যা কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতকে সহজ করবে। নতুন পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো এমন একটি রেলব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে একজন যাত্রী সকালে নিজ জেলা থেকে ট্রেনে উঠে নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় পৌঁছাতে পারেন এবং অফিস শেষে একই দিনে ট্রেনে করে আবার বাড়ি ফিরতে পারেন।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অনেক বড় শহরে এ ধরনের কমিউটার রেলব্যবস্থা অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এতে রাজধানীতে স্থায়ীভাবে বসবাসের চাপ কমে এবং আশপাশের জেলাগুলোতে পরিকল্পিত নগরায়ণও সম্ভব হয়। বাংলাদেশেও একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করা গেলে রাজধানীর ওপর জনসংখ্যার চাপ কমবে এবং নাগরিক জীবন আরও স্বস্তিদায়ক হবে। গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ এবং ভাঙ্গার সঙ্গে রাজধানীর রেল যোগাযোগ আরো শক্তিশালী করা হবে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী যাতায়াত করেন। একইভাবে নরসিংদী থেকেও বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসূত্রে ঢাকায় আসেন।রেলওয়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, কমিউটার ট্রেন সম্প্রসারণ, ডেমু ট্রেন পুনরায় সচল করা এবং স্টেশনগুলোর আধুনিকায়ন এই তিন উদ্যোগ একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে দেশের রেলব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে। উন্নত বিশ্বের মতো রাজধানীকেন্দ্রিক আধুনিক কমিউটার রেলব্যবস্থা গড়ে উঠলে যাত্রীসেবা যেমন উন্নত হবে, তেমনি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা-েও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এ বিষয়ে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, রাজধানী ঢাকার সঙ্গে আশপাশের জেলার রেল যোগাযোগ জোরদারে নতুন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও ভাঙ্গাসহ আশপাশের এলাকায় কমিউটার ট্রেন সার্ভিস সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যাতে মানুষ সকালে ঢাকায় এসে কাজ শেষে আবার বিকেলে নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারেন। পূর্বে আমদানিকৃত ডেমু ট্রেনগুলোর ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়েও সরকার নতুনভাবে চিন্তা করছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় মেরামতের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে এগুলো সচল করার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন