শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০:০৭, ৮ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৮, ৮ জুন ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরের যানজট নিরসন, গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সমন্বিত ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের লক্ষ্যে মনোরেলের সম্ভাব্য বিভিন্ন রুট পরিদর্শন করেছেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) প্রতিনিধি দল। এ সময় দলের সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন।
রোববার নগরের গুরুত্বপূর্ণ করিডরগুলো পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধি দল সম্ভাব্য রুট, যাত্রী চাহিদা এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা মূল্যায়ন করেন। এ সময় তারা কালুরঘাট, অক্সিজেন, আমিন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরের সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। এ পরিকল্পনায় মনোরেল, মেট্রোরেল, লাইট রেল ট্রানজিট (এলআরটি), সড়ক অবকাঠামো এবং জলপথকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
‘নগরের ট্রাফিক পরিস্থিতি, যাত্রী চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ পরিবহন প্রয়োজন বিশ্লেষণ করে কোন রুটে কোন ধরনের গণপরিবহন সবচেয়ে উপযোগী হবে তা নির্ধারণ করা হবে। উচ্চ যাত্রীচাহিদাসম্পন্ন করিডরে মেট্রোরেল, মাঝারি চাহিদার রুটে এলআরটি এবং অপেক্ষাকৃত কম চাহিদার রুটে মনোরেল নির্মাণের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।
মশিউর রহমান জানান, বর্তমানে ডিমান্ড অ্যানালাইসিস ও কারিগরি মূল্যায়নের কাজ চলছে। এসব বিশ্লেষণ শেষে কোন রুটে কী ধরনের রেলভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মাস্টার প্ল্যান ও সুপারিশমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
পরিদর্শন শেষে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জনগণকে স্বল্প সময়ে ও কম ব্যয়ে নিরাপদ এবং সহজ যাতায়াত সুবিধা দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।’
‘চট্টগ্রামে যানজট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে মনোরেল একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।
মেয়র জানান, বাংলাদেশে এখনো মনোরেল বাস্তবায়িত না হলেও এটি তুলনামূলকভাবে কম জায়গা ও ব্যয়ে নির্মাণযোগ্য আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা। প্রাথমিকভাবে অক্সিজেন-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি গেট, আগ্রাবাদ এবং পতেঙ্গা-বিমানবন্দর করিডরকে সম্ভাব্য রুট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।