শিরোনাম
প্রকাশ: ২০:২৩, ২৫ জুন ২০২৬
সিরাজগঞ্জ–বগুড়া নতুন রেলপথ কোন দিক দিয়ে কোন পর্যন্ত যাবে, আগে থেকেই নির্ধারণ হয়ে আছে। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠনের পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নতুন রেলপথে কিছুটা পরিবর্তন আনতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর সেই চাওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাকচ করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, এটি পরিবর্তন করা যাবে না। আগে থেকে ঠিক করা পথ (রুট) ধরে রেললাইন বসবে।
বর্তমান সরকার সিরাজগঞ্জ–বগুড়ার মধ্যে নতুন ৭৬ কিলোমিটার মিশ্র গেজ (মিটারগেজ ও ব্রডগেজ) রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর দিয়েছে। এ রেলপথ নির্মাণ হলে সিরাজগঞ্জ থেকে রেলপথে বগুড়ার দূরত্ব ১১৪ কিলোমিটার কমে যাবে। এতে যাত্রার সময় প্রায় তিন ঘণ্টা কমে আসবে। এখন ট্রেনে ঘুরপথে বগুড়ায় যেতে হয়। ঢাকা থেকে ট্রেন সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর হয়ে সান্তাহার দিয়ে বগুড়া শহরে যায়। নতুন রেললাইন হলে ট্রেন সিরাজগঞ্জ থেকে কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, শেরপুর, শাজাহানপুর ও কাহালু হয়ে বগুড়া শহরে যাবে।
প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। ভারতীয় ঋণের অর্থে এটি বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। কিন্তু জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতীয় সরকার প্রকল্পে অর্থায়ন না করার কথা জানিয়ে দেয়। ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
ভারত সরে যাওয়ার পর এ প্রকল্পে অর্থায়নে রাজি হয়েছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। এ কারণে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধনের পর ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১২ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত করা হচ্ছে। সংশোধন প্রস্তাবটি এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আছে। অনুমোদনের পর তা একনেকে ওঠার কথা।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণ হলো সময়মতো প্রকল্পটির কাজ শুরু করতে না পারা। এর মধ্যে ডলারের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পে নতুন কিছু সেতু ও উড়ালসড়ক যুক্ত করা হয়েছে। জমির মূল্যও বেড়ে গেছে। এসব কারণে প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়ছে।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন রেলপথটি সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়ার রানীরহাট হয়ে বগুড়া শহর পর্যন্ত যাওয়ার কথা। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চেয়েছিলেন, নতুন রেলপথটি বগুড়া শহর অবধি না নিয়ে রানীরহাট থেকে শহরের বাইরে দিয়ে গাবতলী উপজেলা পর্যন্ত যাবে। এর ফলে ১৫ কিলোমিটার বাড়তি রেলপথ নির্মাণ করতে হতো।
বিষয়টি নিয়ে ১ জুন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী লেখেন, নতুন যে রেলপথটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটি বগুড়া শহরের ভেতর না নিয়ে গাবতলী নিয়ে গেলে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।
বর্তমানে কাহালু থেকে বগুড়া শহরের ভেতর দিয়ে গাবতলী পর্যন্ত রেলপথ রয়েছে। পুরোনো এ রেলপথ উঠিয়ে ফেলার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লেখা চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান রেলপথটি ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকার মধ্য দিয়ে গেছে। এ পথে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিং আছে। এসব রেলক্রসিংয়ে প্রতিদিন একাধিকবার ট্রেন চলাচলের কারণে দীর্ঘ সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ নানা স্থানে ব্যাপক যানজট দেখা দেয়।