শিরোনাম
সেলিমুর রহমান
প্রকাশ: ১২:৩৮, ৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৮, ৩ জুন ২০২৬
বগুড়া শহরের দীর্ঘদিনের ভয়াবহ যানজট নিরসন, নিরাপদ ও আধুনিক রেল যোগাযোগ নিশ্চিতকরণ এবং পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে শহরকে বাইপাস করে নতুন রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগকে অনেকেই আধুনিক ও জনমুখী অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর ঘোষিত উন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণ ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথের রাণীরহাট জংশন থেকে বগুড়া শহরে প্রবেশ না করে সরাসরি গাবতলী পর্যন্ত নতুন রেল সংযোগ স্থাপন করা হবে। একইসঙ্গে কাহালু থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথ অপসারণ করে নতুন রুটে আধুনিক রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি ডিও পত্র পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি ইতোমধ্যে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে কাহালু থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত রেলপথটি শহরের ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকাগুলোর মধ্য দিয়ে গেছে। এই রুটে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিং থাকায় ট্রেন চলাচলের সময় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
সচেতন নাগরিকদের মতে, শহরের ভেতর থেকে রেললাইন সরিয়ে বিকল্প রুট নির্মাণ করা হলে শুধু যানজটই কমবে না, বরং নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অনেকেই মনে করছেন, আঞ্চলিক উন্নয়ন ও অবকাঠামো আধুনিকায়নের যে রূপরেখা তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে তুলে ধরছেন, এই প্রকল্প তার বাস্তব প্রতিফলন হতে পারে।
প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, অপসারিত রেলপথের স্থানে গাবতলী-বগুড়া-কাহালু পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি বগুড়ার বর্তমান রেলস্টেশনকে আধুনিকায়ন করে দূরপাল্লার পরিবহনের বাস টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিও পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় প্রকল্পটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বগুড়া শহর রেলক্রসিংজনিত যানজট থেকে মুক্তি পাবে এবং উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর পরিকল্পনার সমন্বয়ে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি হবে শহরের ইতিহাসে অন্যতম বড় অবকাঠামোগত পরিবর্তন, যা কয়েক দশকের পুরোনো যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান এনে দেবে।