ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

আয় বাড়াতে আরও ৩ ট্রেন যাচ্ছে বেসরকারি খাতে

সৌজন্যে: প্রথম আলো

প্রকাশ: ০০:৫৮, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০০:৫৯, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আয় বাড়াতে আরও ৩ ট্রেন যাচ্ছে বেসরকারি খাতে

ছবি: ইমন খাঁন

আয় বাড়াতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আরও তিনটি ট্রেনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো ময়মনসিংহ-জারিয়াঝাঞ্জাইল রুটের জারিয়া লোকাল, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের নারায়ণগঞ্জ কমিউটার ও ঢাকা-নরসিংদী রুটের নরসিংদী কমিউটার। বর্তমানে পূর্বাঞ্চলের আটটি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চলাচল করছে। নতুন তিনটি যুক্ত হলে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১১–তে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, লোকবলসংকটের কারণে ট্রেনের সব যাত্রীর টিকিট নিয়মিত পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। অনেকেই টিকিট ছাড়া ট্রেনে উঠছেন। আবার কেউ কম দূরত্বের টিকিট কেটে বেশি দূরত্বের গন্তব্যে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ওই তিন ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে টিকিট বিক্রি, টিকিট পরীক্ষা ও ভাড়া আদায় আরও কার্যকর হবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, তিনটি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়া হলে আগের তুলনায় বেশি রাজস্ব পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে পূর্বাঞ্চলের যে আটটি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চলছে, সেগুলো হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের কর্ণফুলী কমিউটার, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের সাগরিকা কমিউটার, ঢাকা-জারিয়াঝাঞ্জাইল রুটের বলাকা কমিউটার, ঢাকা-আখাউড়া রুটের তিতাস কমিউটার, ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটের তিতাস কমিউটার, ঢাকা-মোহনগঞ্জ রুটের মহুয়া কমিউটার, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জবাজার রুটের জামালপুর কমিউটার এবং দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার।

তিনটি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়া হলে আগের তুলনায় বেশি রাজস্ব পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত কুমার বিশ্বাস

সিদ্ধান্ত ছয় ট্রেনের, আপাতত তিনটি

যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন ও রাজস্ব আয় বাড়াতে চলতি বছরের এপ্রিলে ছয়টি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে রেলওয়ে সূত্র। সেগুলোর মধ্যে জারিয়া লোকাল, নারায়ণগঞ্জ কমিউটার ও নরসিংদী কমিউটার ছাড়াও ছিল নোয়াখালী–লাকসাম রুটের সমতট এক্সপ্রেস, নোয়াখালী–ঢাকা রুটের নোয়াখালী এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম–নাজিরহাট রুটের নাজিরহাট লোকাল।

তবে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্র জানিয়েছে, আপাতত তিনটি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়া হচ্ছে। কারণ, সমতট এক্সপ্রেস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস ইঞ্জিনসংকটে বর্তমানে বন্ধ। অন্যদিকে নাজিরহাট লোকালকে এখনই বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়া হচ্ছে না। ট্রেনটির বগির মানোন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানোন্নয়ন শেষ হলে সেটিও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আপাতত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া জারিয়া লোকাল প্রতিদিন আটবার (চার জোড়া), নারায়ণগঞ্জ কমিউটার ১৬ বার (আট জোড়া) এবং নরসিংদী কমিউটার দুবার (এক জোড়া) চলাচল করে। এই তিন ট্রেন পরিচালনার বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে সম্প্রতি দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রেলওয়ে। আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত দরপত্রের ফরম সংগ্রহ করা যাবে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ৬ অক্টোবর।

টিকিট পরীক্ষা কঠিন

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, লোকাল ও কমিউটার ট্রেনে যাত্রীর ওঠানামা বেশি। এসব ট্রেন স্বল্প দূরত্বে চলাচল করে এবং পথে অনেক স্টেশনে থামে। ফলে প্রতিটি স্টেশনে বিপুলসংখ্যক যাত্রী ওঠানামা করে। তাদের টিকিট পরীক্ষা ও যাত্রী ব্যবস্থাপনার জন্য পর্যাপ্ত জনবল প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রেলে জনবলসংকট রয়েছে। বিশেষ করে টিকিট পরীক্ষকসহ বাণিজ্যিক বিভাগের জনবলঘাটতির কারণে সব ট্রেনে নিয়মিত টিকিট পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।

এর ফলে অনেক সময় স্টেশন থেকে টিকিট না কেটেই ট্রেনে ওঠার সুযোগ থাকে। আবার কেউ কেউ এক অংশের টিকিট নিয়ে আরও দূরের গন্তব্যে চলে যান। এতে রেলওয়ের রাজস্ব ক্ষতি হয়। টিকিট বিক্রি ও পরীক্ষা, যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় এবং হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হলে বিনা টিকিটের যাত্রী কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পূর্বাঞ্চলের যে আটটি ট্রেনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলো সরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকাকালে সর্বশেষ রেলওয়ের আয় হয়েছিল ১০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার পর ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এসব ট্রেন থেকে আয় হয়েছে ২৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ আয় বেড়েছে ১৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

তিন ট্রেনে আয় প্রায় সাড়ে ৪ কোটি

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে নারায়ণগঞ্জ কমিউটার, নরসিংদী কমিউটার ও জারিয়া লোকাল থেকে রেলের আয় হয়েছে ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এ সময়ে ট্রেন তিনটিতে ১০ লাখ ৯৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার পর এসব ট্রেন থেকে বেশি রাজস্ব আয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পূর্বাঞ্চলের যে আটটি ট্রেনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলো সরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকাকালে সর্বশেষ রেলওয়ের আয় হয়েছিল ১০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার পর ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এসব ট্রেন থেকে আয় হয়েছে ২৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ আয় বেড়েছে ১৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন