শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬:৩০, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৩০, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক ঘটনায় ট্রেনের ধাক্কায় আহত এক অজ্ঞাত যুবক এবং হাসপাতালে আট দিন চিকিৎসাধীন থাকা আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তাদের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করলেও জাতীয় তথ্যভান্ডারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ময়নাতদন্ত শেষে দুই মরদেহই ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে আখাউড়া রেলওয়ে থানাধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার পাঘাচং রেলস্টেশনের আপলাইনে নোয়াখালীগামী আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত যুবক গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে উদ্ধার করে রাত ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। তার মাথার পেছনে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং বুকে চাপ থাকায় শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। পরে তাকে অক্সিজেন দেওয়া হলেও রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
অন্যদিকে, গত মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা শ্মশানঘাট এলাকা থেকে অসুস্থ অবস্থায় আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। পরে নব-দিগন্ত নামের একটি মানবিক সংগঠনের সহায়তায় তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে কাপড় পরানো হয়। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের তত্ত্বাবধানে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ব্যক্তির প্রয়োজনীয় ওষুধ, কাপড়চোপড় ও অন্যান্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দুই অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের জন্য পিবিআই মরদেহ থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে জাতীয় তথ্যভান্ডারে যাচাই করে। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পিবিআই সূত্র জানিয়েছে, পরিচয় নিশ্চিত করতে পুনরায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে যাচাই করা হবে।
এদিকে, দুই অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে সদর মডেল থানা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, পিবিআই এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (নিঃ) মো. শাহ আলম মিয়া জানান, ট্রেনের ধাক্কায় আহত অজ্ঞাত যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত তার নাম-পরিচয় বা ঠিকানা পাওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত তার নাম-পরিচয় বা ঠিকানা পাওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ মোঃ আজহার উদ্দিন বলেন, “দুই অজ্ঞাত মরদেহ ময়নাতদন্তের পর বর্তমানে হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। মরদেহ দুটির দাফনের জন্য সংশ্লিষ্ট পৃথক থানার পুলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের কাছে আবেদন করেছে। তবে দাফনের আগে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছি এবং বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে কোনো স্বজন তাদের সন্ধান পেতে পারেন। এরপরও যদি পরিচয় শনাক্ত না হয়, তাহলে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী মরদেহ দুটি দাফন করা হবে।”