ঢাকা, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

৩০ বৈশাখ ১৪৩৩, ২৬ জ্বিলকদ ১৪৪৭

পৃথিবীর দীর্ঘতম ট্রেনের গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮:২৩, ১১ মে ২০২৬ | আপডেট: ১৮:২৫, ১১ মে ২০২৬

পৃথিবীর দীর্ঘতম ট্রেনের গল্প

‘ট্রেন দ্যু ডেজার্ট’ হলো বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রেন। ট্রেনটি ছুটে চলে সাহারা মরুভূমির মধ্য দিয়ে। ২০ ঘণ্টার সফরে ট্রেনটি পাড়ি দেয় প্রায় ৭০৪ কিলোমিটার পথ। ট্রেনটিতে তিন থেকে চারটি ডিজেল লোকোমোটিভ আর ২০০ থেকে ২১০ ফ্রেইট বগি এবং একটিমাত্র যাত্রী বগি রয়েছে। এই ট্রেনে বেশির ভাগ আকরিক লোহা পরিবহন করা হয়।

জেনে রাখা ভালো, দরিদ্র দেশ মৌরিতানিয়া খনিজ সম্পদ অফুরন্ত। মাটির নিচ থেকে আকরিক লোহা তুলে তারা তা এ ট্রেনে করে অন্যত্র পাঠায়। অন্যদিকে সাধারণত মরুভূমির দূর প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ এ ট্রেনে সফর করেন। সাহারাকে কাছ থেকে দেখতে এ ট্রেন সফরের অভিজ্ঞতা সত্যিই অসামান্য! মৌরিতানিয়া উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার একটি দেশ।

এ দেশের মধ্য দিয়েই সাহারা মরুভূমির বুক চিরে ছুটে চলে ট্রেন দ্যু ডেজার্ট (Train du Desert)। ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার লম্বা এ ট্রেনটি বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রেন হিসেবে পরিচিত। পর্যটকদের মতে, সাহারা মরুভূমিকে ভালো করে দেখা ও জানার জন্য এ ট্রেনের বিকল্প নেই।

নউয়াধিবাই বন্দর থেকে ২০ ঘণ্টার সফরে প্রায় ৭০৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ছুটে চলে ট্রেন দ্যু ডেজার্ট। অবশ্য স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়া অন্যদের জন্য এ ট্রেনে সফর আরামদায়ক নয় বলে জানা গেছে। তবে প্রচণ্ড গরমে ঠাসাঠাসি ভিড়ে দীর্ঘ সময়ব্যাপী সফরের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হতে পারে নতুন কিছু জানার আগ্রহ এবং মরুভূমিকে চেনার উত্তেজনায়। বছরের ৩৬৫ দিনই চলে ট্রেনটি। নউয়াধিবাই বন্দর থেকে প্রতিদিন সকালে ছেড়ে এটি আতার হয়ে রাতে লোহার খনি জাওয়েরাতে গিয়ে পৌঁছে।

এ ট্রেনে করে কেউ শেষ প্রান্ত জাওয়েরা পর্যন্ত যেতে না চাইলে চোয়ামে নেমে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নউয়াধিবাই বন্দর থেকে চোয়াম পৌঁছাতে ট্রেনটির সময় লাগে প্রায় ১৪ ঘণ্টা। সেখান থেকে যে কেউ ট্যাক্সি নিয়ে মৌরিতানিয়া রাজধানী আতার শহরে পৌঁছাতে পারেন। পর্যটকরা চাইলে সেখানে দু-এক দিন কাটাতেই পারেন।

আর ফেরার সময় চোয়াম থেকেই আবার ট্রেন ধরা যায়। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ চোয়ামে এসে পৌঁছে ‘ট্রেন দ্যু ডেজার্ট’ এবং এটি এখানে ১০ মিনিট যাত্রাবিরতি দেয়। যাত্রীর চাপ থাকায় প্রায় সবাই জিনিসপত্র নিয়ে তাড়াহুড়ো করে ওঠে পড়ে। যেকোনো যাত্রী বা পর্যটকের অবশ্যই সঙ্গে কম্বল রাখতে হয়। কারণ রাতের মরুভূমির হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা আর লোহার বারের শীতলতার মধ্যেই তাদের এ সফর করতে হয়।

আরেকটি কথা জেনে রাখুন, এ ট্রেনে ওঠার জন্য টিকিট কাটার কোনো প্রয়োজন নেই এবং কারও অনুমতিও নিতে হয় না। ট্রেনে ওঠে পড়লেই হলো। তবে ট্রেনে ওঠার আগে ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না চাইলে অবশ্যই ভালো করে  খাওয়া-দাওয়া করে নিতে হয়। কারণ ট্রেনের ভেতরে যে হারে ধুলা ওড়ে, তাতে সেখানে বসে খাওয়া প্রায় অসম্ভব। এ ধূসর যাত্রার জন্য পর্যটকরা অবশ্যই পুরোনো জামাকাপড় বেছে নেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন