শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেক্স :
প্রকাশ: ১০:৩৪, ১৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৪, ১৩ জুলাই ২০২৬
রাস্তার উপর দিয়ে যাতায়াত করে ট্রেন। নীচে পড়তে থাকে ট্রেনের যাত্রীদের মলমূত্র। ফলে, নীচের পথচারী এবং সাইকেল আরোহীরা দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়তে বাধ্য হন। এ বার এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চলেছেন পথচারীরা। সৌজন্যে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের উদ্যোগ।ব্যাঁটরা থানার অন্তর্গত চ্যাটার্জিপাড়া আন্ডারপাস দিয়ে প্রতি দিন হাজার হাজার পথচারী যাতায়াত করেন। নটবর পাল রোডের ওই আন্ডারপাস দিয়ে নিত্য হাজার হাজার সাইকেল, বাইক, টোটো এবং অন্যান্য গাড়ি যাতায়াত করে। কারণ, ওই রাস্তার একদিকে সরাসরি বেলগাছিয়া মোড় যুক্ত আছে। যেখান থেকে গাড়ি কোনা অথবা সালকিয়ার দিকে যাতা়াত করে। আবার আন্ডারপাসের অন্য দিকে রয়েছে ব্যস্ত হাওড়া–আমতা রোড। সেখান দিয়ে প্রতি দিন বাস, লরি এবং অন্যান্য গাড়ি একই ভাবে হাওড়া ময়দান অথবা ডোমজুড়ের দিকে যাতায়াত করে। কিন্তু সমস্যা হলো, ওই আন্ডারপাসের উপর দিয়ে দক্ষিণ–পূর্ব রেলের হাওড়া খড়্গপুর শাখার যাবতীয় লোকাল এবং দূরপাল্লার ট্রেনের যাতায়াত। এলাকার পথচারীরা জানিয়েছেন, যখন লাইনের উপর দিয়ে দূরপাল্লার এবং লোকাল ট্রেন যাতায়াত করে, তখন তাঁরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়তে বাধ্য হন। কারণ, যাত্রীদের মলমূত্র এবং থুতু রাস্তায় ফেলতে ফেলতে ট্রেনটি যায়। তাই তাঁরা আন্ডারপাসের আগেই দাঁড়িয়ে পড়তে বাধ্য হন। এর ফলে, রাস্তার দু’দিকে লম্বা লাইন করে গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। প্রতি দিন স্কুল এবং অফিস টাইমে নিত্যযাত্রীরা চরম অসুবিধার মধ্যে পড়েন।এই সমস্যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে দাশনগর ট্র্যাফিক গার্ডে জানানো হয়। এর পরে ওই ট্র্যাফিক গার্ডের আধিকারিকরা বেশ কয়েকবার লিখিত ভাবে দক্ষিণ-পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষকে সমস্যাটি নিয়ে জানায়। তা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন রেল কর্তৃপক্ষ মৌখিক আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই করেনি বলে অভিযোগ।তবে রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার আসার পরে সদ্য দক্ষিণ-পূর্ব রেলের ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কী ভাবে রেললাইনের নীচে শেড দেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। সঙ্গে ছিলেন দাশনগর ট্র্যাফিক গার্ডের পুলিশ আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, ওই আন্ডারপাসের পাশেই রয়েছে হাইট বার। সেখানে উল্লেখ আছে, একমাত্র সাড়ে তিন মিটার উচ্চতার গাড়ি চলাচল করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে, যদি লাইনের নীচে শেড তৈরি করা হয়, তবে সেই উচ্চতা কিছুটা কমে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই, ওই জায়গায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রাস্তার গভীরতা বাড়ানো যেতে পারে, এমনটাই ভাবা হচ্ছে। তবে সে ক্ষেত্রে যাতে বর্ষায় জল না জমে, তার ব্যবস্থাও করা হবে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, এটা দীর্ঘদিনের সমস্যা। দেরিতে হলেও রেল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসায় ওই এলাকার ট্র্যাফিক জ্যাম কমবে। সুবিধা হবে পথচারী এবং যাত্রীদের।