ঢাকা, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

দুই মেট্রোরেল নির্মাণে কাজ পেল পাঁচ দেশের কোম্পানি

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬:১৪, ২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:১৪, ২ অক্টোবর ২০২৬

দুই মেট্রোরেল নির্মাণে কাজ পেল পাঁচ দেশের কোম্পানি

ঢাকা মেট্রোরেলের দুটি লাইনের আটটি প্যাকেজের নির্মাণকাজ পেয়েছে বাংলাদেশ, চীন, জাপান, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এসব কাজের মোট চুক্তিমূল্য প্রায় ৫৮ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে এমআরটি লাইন-১ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের ছয়টি প্যাকেজের মূল্য ৫৩ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা। এমআরটি লাইন-৫ (উত্তরা রুট, ১ম সংশোধিত) প্রকল্পের দুটি প্যাকেজের মূল্য চার হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত আটটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। 

অর্থ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ মেট্রোরেলের এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে।
বিভিন্ন যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি রয়েছে। ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড মোট তিনটি প্যাকেজে অংশীদার। এর একটি জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এবং দুটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে।

জাপানি প্রতিষ্ঠানের হাতে সিংহভাগ
মোট চুক্তিমূল্যের অর্ধেকের বেশি কাজ পেয়েছে জাপানের প্রতিষ্ঠান। লাইন-১-এর সবচেয়ে বড় প্যাকেজ রামপুরার উত্তর থেকে নতুন বাজার স্টেশন পর্যন্ত মেইন লাইন ও স্টেশন নির্মাণের কাজ পেয়েছে টোকিও-এমআইএল যৌথ উদ্যোগ। এর চুক্তিমূল্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া নর্দ্দা স্টেশনের উত্তর থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার অংশের মেইন লাইন ও স্টেশনের কাজ পেয়েছে নিশিমাৎসু-টিপিএল-তোদা যৌথ উদ্যোগ। এর মূল্য ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকার বেশি। দুটি প্যাকেজ মিলিয়ে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো পেয়েছে প্রায় ২৯ হাজার ৬২৮ কোটি টাকার কাজ, যা মোট মূল্যের প্রায় ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ।

ভারতের দুই প্রতিষ্ঠান
লাইন-১-এর ট্র্যাক ওয়ার্কস ও বৈদ্যুতিক সুবিধার কাজ পেয়েছে এলঅ্যান্ডটি-সুমিটোমো কনসোর্টিয়া। এর চুক্তিমূল্য ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকার বেশি। সিগন্যাল, টেলিযোগাযোগ, প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর ও এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের কাজ পেয়েছে ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেড। এর মূল্য ছয় হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বেশি। দুটি প্যাকেজে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের মূল্য প্রায় ১৭ হাজার ৫১২ কোটি টাকা, যা মোট মূল্যের প্রায় ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ।

চীনের যৌথ উদ্যোগ পেল তিন কাজ
চীনের প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বাধীন যৌথ উদ্যোগ তিনটি প্যাকেজের কাজ পেয়েছে। লাইন-১-এর ডিপোতে পূর্ত ও ভবন নির্মাণের কাজ পেয়েছে সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল যৌথ উদ্যোগ, মূল্য চার হাজার ২৮৫ কোটি ছয় লাখ টাকার বেশি। একই লাইনের ট্রানজিশন থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার অংশের কাজ পেয়েছে সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগ, মূল্য দুই হাজার ৫৩৪ কোটি ৯ লাখ টাকার বেশি। লাইন-৫-এর হেমায়েতপুর স্টেশন থেকে আমিনবাজার ট্রানজিশন এবং নতুন বাজার ট্রানজিশন থেকে ভাটারা স্টেশন পর্যন্ত এলিভেটেড অংশের মেইন লাইন ও পাঁচটি স্টেশন নির্মাণের কাজও তারা পেয়েছে, যার মূল্য দুই হাজার ৬৭০ কোটি ৯৮ লাখ টাকার বেশি। তিন প্যাকেজ মিলিয়ে চীনা প্রতিষ্ঠান নেতৃত্বাধীন যৌথ উদ্যোগগুলো পাচ্ছে প্রায় ৯ হাজার ৪৯০ কোটি টাকার কাজ।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান 
লাইন-৫-এর ডিপোতে পূর্ত ও ভবন নির্মাণের কাজ পেয়েছে সিপিসি-হানিল যৌথ উদ্যোগ। এতে আছে বাংলাদেশের কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম লিমিটেড এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড। চুক্তিমূল্য এক হাজার ৮৪৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার বেশি।

দেশি-বিদেশি ইউরিয়া
দেশের অভ্যন্তরীণ কারখানা ‘কাফকো’ থেকে তৃতীয় চালানে ৩০ হাজার টন বস্তাজাত ইউরিয়া সার ১৬২ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় কেনা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতি টনের দাম পড়ছে ৪৩৮ দশমিক ১২৫ ডলার। 

সৌদি আরবের ‘সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস’ থেকে ষষ্ঠ চালানে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া ২২৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকায় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘ফার্টিগ্লোব’ থেকে প্রথম চালানে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া ২৬৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় আমদানির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা ও ই-জিপি ব্যবস্থার উন্নয়ন
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের অধীনে রেনাটা থেকে দুটি আলাদা প্যাকেজে মোট তিন কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার সাইকেল তৃতীয় প্রজন্মের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি কেনা হবে। এতে সরকারের ব্যয় হবে ১৯৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

সরকারি ই-জিপি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও চালুর রাখার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘দোহাটেক নিউ মিডিয়াকে’ এক বছরের জন্য ৪২ কোটি ১৮ লাখ টাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পুনর্নির্ধারিত মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতি ইউনিট বা কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের মূল্য পড়বে ৪.৬৯৭১ সেন্ট যা স্থানীয় মুদ্রায় ৫ টাকা ৭৭ পয়সা। 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন