ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

২ আষাঢ় ১৪৩৩, ৩০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

অর্থায়নের অভাবে অনিশ্চয়তায় ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ

সেলিমুর রহমান

প্রকাশ: ১৬:২৯, ১৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৩০, ১৬ জুন ২০২৬

অর্থায়নের অভাবে অনিশ্চয়তায়  ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশিত ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ প্রকল্প এখন অর্থ সংকটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ২১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেগা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা চূড়ান্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বড় বিনিয়োগকারী বা উন্নয়ন সহযোগীর অর্থায়ন নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফরিদপুরের ভাঙা থেকে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা পর্যন্ত রেলসংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে প্রণীত প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ১৯টি স্টেশন ও একটি জংশন নিয়ে পরিকল্পিত এই রেলপথ নির্মাণে প্রয়োজন হবে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ একর জমি। তবে দীর্ঘ সময় ধরে অর্থায়ন জটিলতা কাটিয়ে উঠতে না পারায় প্রকল্পের ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী রেললাইনটি বরিশালের গৌরনদী, উজিরপুর, বরিশাল বিমানবন্দর এলাকা, কাশিপুর, সাগরদী ও টিয়াখালী অতিক্রম করে কীর্তনখোলা নদী পেরিয়ে বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটায় পৌঁছাবে। এর মাধ্যমে পায়রা বন্দর, দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি ও পর্যটন খাত এবং রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশা করা হয়েছিল।

রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২২ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২৯ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অর্থের সংস্থান না হওয়ায় এখনো কাজ শুরু করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ এখন বড় কোনো বিদেশি ঋণ বা উন্নয়ন সহযোগীর অর্থায়নের ওপর নির্ভর করছে।

এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের অনিশ্চয়তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সম্ভাব্য অধিগ্রহণ এলাকার বাসিন্দারাও। দীর্ঘদিন ধরে জমি ও স্থাপনার ওপর নানা বিধিনিষেধ থাকলেও ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় তারা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিত করা না গেলে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো প্রকল্প আরও দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকতে পারে। এতে একদিকে যেমন প্রকল্প ব্যয় বাড়বে, অন্যদিকে পায়রা বন্দরকে রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার কৌশলগত পরিকল্পনাও পিছিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন