শিরোনাম
শাহ সারওয়ার, কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২০:৩৭, ১৫ জুন ২০২৬
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর রেলস্টেশন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রেনের হুইসেল আর যাত্রীর কোলাহলে মুখরিত। কিন্তু সূর্য ডুবতেই স্টেশনের চেহারা পাল্টে যায়। প্ল্যাটফর্মের বেঞ্চ, পরিত্যক্ত কক্ষ আর আড়ালে-আবডালে বসে যায় মাদকসেবীদের আসর। স্থানীয়রা বলছেন, স্টেশনটি এখন মাদকসেবীদের ‘অভয়ারণ্যে’ পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের দক্ষিণ প্রান্তে ৫/৭ জন যুবক জটলা পাকিয়ে বসে আছে। তাদের কারো হাতে সিগারেট, কারো পকেটে দেশলাই। স্থানীয় দোকানদারদের অভিযোগ, এদের বেশিরভাগই ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করে। ট্রেন আসার নাম করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দেয়, আর সাধারণ যাত্রীরা ভয়ে স্টেশনের উত্তর পাশ দিয়ে যাতায়াত করে।
কুলিয়ারচর কলেজের এক শিক্ষার্থী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, “সন্ধ্যার পর টিউশনি শেষে স্টেশন দিয়ে বাসায় ফিরি। ছেলেগুলা নেশা করে বসে থাকে, বাজে কথা বলে। নারী যাএীদের নিকট থেকে ছিনতাইএর ভয়ে নারী রা তো এই রাস্তা একদমই ব্যবহার করে না।”
একজন অটো চালক বলেন, “পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান দেয়, ২-৪ জনকে ধরে নিয়ে যায়। ছাড়া পেয়ে আবার আগের জায়গায় বসে। স্থায়ী সমাধান দরকার।”
কুলিয়ারচর স্টেশন মাস্টার পাপ্পু মিয়া জানান, বিশ্রাম কক্ষের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা জনবলের সংকট আছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
কুলিয়ারচর থানার ওসি মোঃ আরিফ বলেন “মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি। স্টেশন এলাকায় নিয়মিত মোবাইল টহল চলছে। জনগণ তথ্য দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি:
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শুধু ধরপাকড়ে কাজ হবে না। স্টেশনে পর্যাপ্ত আলো, সিসিটিভি ক্যামেরা ও রাত ১০টা পর্যন্ত আনসার/পুলিশের স্থায়ী পোস্ট বসাতে হবে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজে কোমলমতি ছাএছাএীদের মাঝে মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে হবে।
রেলস্টেশন মানে যাত্রীর নিরাপত্তা। সেই স্টেশন যদি মাদকসেবীদের দখলে চলে যায়, তবে কুলিয়ারচরের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কোথায় যাবে? প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ চায় এলাকাবাসী।