শিরোনাম
প্রকাশ: ০০:৩৩, ১৭ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০০:৩৪, ১৭ আগস্ট ২০২৬
ঢাকাগামী ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনে যাত্রীদের মধ্যে ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর মহেশপুর স্টেশনে ট্রেনের যাত্রীদের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
এসময় কয়েকশত লোক ধারালো অস্ত্র নিয়ে রেললাইনে নেমে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করে এবং পরে ট্রেন লক্ষ্য করে ব্যাপক পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
ঘটনার সূত্রপাত হয় কেরানীগঞ্জ, মহেশপুর ও নগরকান্দার যাত্রীদের মধ্যে ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে। একপর্যায়ে ট্রেনের বগির ভেতরেই যাত্রীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। কাশিয়ানী অতিক্রম করার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে জানা গেছে।
ট্রেনটি মহেশপুর স্টেশনে পৌঁছালে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, মহেশপুরের স্থানীয় কয়েকশত ব্যক্তি প্ল্যাটফর্ম থেকে রেললাইনে নেমে ট্রেনে থাকা নগরকান্দার যাত্রীদের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করেন। এ সময় আতঙ্কিত যাত্রীরা বগির দরজা বন্ধ করে দেন। ট্রেনে প্রবেশ করতে না পেরে হামলাকারীরা ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ শুরু করে।
পাথরের আঘাতে ট্রেনের পরিচালকের বগির কাচ ভেঙে যায়। কাচ ও অন্যান্য অংশ ভেঙে বগির ভেতরে ছিটকে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় ট্রেনের পরিচালক বিজয় বিশ্বাস বগির ভেতরে অবস্থান করছিলেন। প্রাণভয়ে তিনি টয়লেটের ভেতরে আশ্রয় নেন এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
এ ঘটনার আগে ট্রেনের আসনে বসাকে কেন্দ্র করেও মোহাম্মদ রোহন নামে এক যাত্রীর ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। দুই শিশুকে রক্ষা করতে গিয়ে এক যাত্রী আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
ট্রেনের পরিচালক বিজয় বিশ্বাস বলেন, ঘটনার পর তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা তিনি কখনো আশা করেননি। তিনি শিবচরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, কেরানীগঞ্জে রেল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পুলিশ মোতায়েন থাকায় সেখানে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। নিয়মিত এই ট্রেনে চলাচলকারী যাত্রীদের দাবি, ট্রেনের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত দায়িত্বে রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে যাত্রীদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা কিংবা বহিরাগতদের ট্রেনে ওঠার চেষ্টা ঠেকাতে প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ স্টেশনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি আন্তঃনগর বা কমিউটার ট্রেনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রেল কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। মহেশপুরের মতো কোনো স্টেশনে যদি সংঘবদ্ধভাবে ট্রেনে হামলার পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।