শিরোনাম
প্রকাশ: ১২:১৮, ১৬ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৯, ১৬ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের পাহাড়তলী ক্যারেজ ও ওয়াগন মেরামত কারখানার উন্নয়ন এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ১২ দফা দাবিতে রেলওয়ের সচিবের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়ীজ লীগ (বিআরইএল), পাহাড়তলী কারখানা পূর্ব শাখা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সংগঠনটির সভাপতি মো. মনজুর আলম স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি বাংলাদেশ রেলওয়ের সচিবের কাছে প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, পাহাড়তলী কারখানায় মঞ্জুরীকৃত জনবল ২ হাজার ২৫৫ জন হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৯১৯ জন। ফলে ১ হাজার ৩৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে। মঞ্জুরীকৃত জনবলের প্রায় ৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশ পদ শূন্য থাকায় কারখানাটি জনবল সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত কাঁচামালের অভাবেও কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় রেলওয়ের দক্ষ শ্রমিক-কর্মচারীরা নানা সংকটের মধ্যেও নিজেদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জাতীয় স্বার্থে কারখানার কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিআরইএলের ১২ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—জ্যেষ্ঠতা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে মিস্ত্রী ২য়, ফিটার গ্রেড-১, এম/ফিটার গ্রেড-১সহ বিভিন্ন পদে দ্রুত পদোন্নতি প্রদান, নিয়োগ বিধি-২০২০ ও সংশোধিত জনবল কাঠামো দ্রুত সংশোধন, মিস্ত্রী গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ পদের মঞ্জুরীকৃত সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে সুযোগ নিশ্চিত করা।
এছাড়া খালাসী পদ থেকে বিভিন্ন ট্রেডের এসএস পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ফিডার পদে পূর্বের মতো চার বছর নির্ধারণ, নতুন নিয়োগে রেলওয়েতে কর্মরত কর্মচারীদের জন্য বিভাগীয় কোটা নিশ্চিত এবং কারখানা কর্মচারীদের ঝুঁকি ভাতা প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।
কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত সেমি-স্কিল্ড ওয়েল্ডার পদে নিয়োগ, ঠিকাদারের মাধ্যমে ক্যারেজ মেরামত/পুনর্বাসন বন্ধ করে কারখানার নিজস্ব কর্মচারীদের মাধ্যমে জিওএইচ ওভারডিউ ক্যারেজ মেরামত ও পুনর্বাসন, কারখানা ডিসপেনসারিতে নিয়মিত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের দাবিও রয়েছে।
স্মারকলিপিতে কারখানার স্যানিটেশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মহিলা কর্মচারীদের জন্য চাইল্ড কেয়ার সেন্টার, পৃথক এবাদতখানা ও ওয়াশরুম নির্মাণ, রেশনিং ভাতার পরিবর্তে রেশনিং ব্যবস্থা চালু, সাবসিডি ক্যান্টিন চালু, সকল শপে অক্সিজেন পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত এবং স্টোর ও গোডাউনের টিনের ছাদের পরিবর্তে ঢালাই ছাদ নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া সকল ধরনের শ্রমিক হয়রানি বন্ধেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে পাহাড়তলী কারখানার উন্নয়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রেলশ্রমিকদের বিদ্যমান সমস্যা ও বৈষম্য নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।