শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭:২০, ২ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:২০, ২ নভেম্বর ২০২৬
মৌলভীবাজারের সংরক্ষিত বনাঞ্চল লাউয়াছড়ার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত আখাউড়া-সিলেট রেলপথে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি ঢাল, জীর্ণ রেলপথ এবং পুরোনো ইঞ্জিনের কারণে গত আট মাসে এ পথেই অন্তত ২০ বার ট্রেন আটকা পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে করে নিয়মিত শিডিউল বিপর্যয়ের পাশাপাশি চরম আতঙ্কে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা।
১৮৯৮ সালে চালুকৃত এই ঐতিহাসিক রেলপথে বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে প্রতিদিন ছয়টি আন্তনগর ট্রেন চলাচল করে, যেগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। তবে শ্রীমঙ্গল থেকে ভানুগাছ পর্যন্ত ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার বনাঞ্চল অংশের রেললাইনে ক্লিপ ও নাট-বল্টু না থাকা এবং কিছু স্থানে নড়বড়ে অবস্থার কারণে ঝুঁকি আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ২৯০০ ও ২৬১০ সিরিজের ১৮-১৯ বছরের পুরোনো ইঞ্জিনগুলো পাহাড়ি চড়াই উৎরাই পার হতে গিয়ে প্রায়ই অতিরিক্ত চাপে শক্তি হারিয়ে ফেলছে। এর আগে ১ ও ২ অক্টোবর কালনী এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হওয়া এবং পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের হুক ছিঁড়ে বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো বড় ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে এই রুটটি ডুয়েল গেজে রূপান্তরের একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হলেও নির্দিষ্ট সময়ে তার কাজ শুরু হয়নি। ফলে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে সিলেট অঞ্চলের রেল যোগাযোগ এখন হুমকির মুখে। যদিও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ইঞ্জিন সংকটের কথা স্বীকার করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে, তবে যাত্রী ও স্থানীয় আন্দোলনকারীদের দাবি—ঝুঁকিপূর্ণ এই রেলপথ দ্রুত সংস্কার এবং নতুন ইঞ্জিন সংযোজন না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব নয়।