শিরোনাম
মোঃ মোতাহার হোসেন সরকার, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১৪:০৭, ১ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৪:০৮, ১ নভেম্বর ২০২৬
নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌরসভায় অবস্থিত আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর লাইন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। ট্রেন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া এই লাইন থেকে ক্লিপ, ফিশপ্লেটসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি দুর্বৃত্তরা বড় আকারের রেলপাতও চুরি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জানা থাকলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ঈশ্বরদী বাইপাস ও আব্দুলপুর রেলওয়ে জংশনের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে অবস্থিত আজিমনগর স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন ৬৫ থেকে ৬৮টিরও বেশি ট্রেন চলাচল করে। প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো এই স্টেশনটি ১৮৭৮ সালে পাঁচটি রেললাইন ও তিনটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে নির্মিত হয়।
পরবর্তী সময়ে যমুনা সেতু নির্মাণের পর ২০০০ সাল নাগাদ স্টেশনটির দুটি সিক লাইন তুলে ফেলা হয়। পরে সিবিআই সিগন্যাল ব্যবস্থা ও ডুয়েল গেজ লাইনের আওতায় ১ নম্বর লাইনে কাঠের স্লিপার স্থাপন করা হয়। ২০১৯ সালে সংস্কারের সময় কাঠের স্লিপারের পরিবর্তে কংক্রিটের স্লিপার বসানো হলেও নতুন করে পাথর স্থাপন করা হয়নি বলে জানা গেছে।
২০২৩ সালে জনবলসংকটের কারণে স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ছয় মাস পর পুনরায় চালু হলেও ১ নম্বর লাইনের আর কোনো সংস্কার করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে লাইনটি বর্তমানে ট্রেন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এ কারণে ১ নম্বর লাইনের পরিবর্তে ২ ও ৩ নম্বর লাইন ব্যবহার করে ট্রেন চলাচল করছে। এতে ট্রেনের ক্রসিংসহ পরিচালনাগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা লাইনটির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে সরকারি সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে রেলপথটির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে পাকশী রেলওয়ে বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ গৌতম বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আজিমনগর স্টেশনের ওই সেকশনটি তাঁর আওতাধীন নয়। এ বিষয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী-২-এর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
পরে পাকশী বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় আজিমনগর স্টেশনের ১ নম্বর লাইন দ্রুত সংস্কার, রেললাইনের যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগ তদন্ত এবং সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।