শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২:২৬, ২৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২২:২৬, ২৭ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী (লালমনিরহাট) মো. তাকি আল জাওয়াদকে পুনরায় চাকরিতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ ঘিরে রেলওয়ের অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, তাকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়ভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মো. তাকি আল জাওয়াদের বিরুদ্ধে রেলওয়ের মালামাল ক্রয়সংক্রান্ত অনিয়ম, আর্থিক অসঙ্গতি ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় তিনি ২০২৩ সালে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করেন। পরে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করেন বলে জানা যায়। দীর্ঘ সময় চাকরির বাইরে থাকার পরও তাকে পুনর্বহালের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত নথিপত্র অনুযায়ী, মো. তাকি আল জাওয়াদ ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর অপরাহ্ন থেকে কার্যকর করার অনুরোধ জানিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চাকরি থেকে ইস্তফাপত্র জমা দেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, একান্ত পারিবারিক কারণে তিনি স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে চাকরি হতে ইস্তফা প্রদান করতে ইচ্ছুক এবং তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের সদয় বিবেচনা কামনা করেন।
ইস্তফাপত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি ৩২তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর সহকারী বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১৬ সালে চাকরিতে স্থায়ী হন। পরবর্তীতে বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার তথ্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হক ২০২১ সালের ২৯ ডিসেম্বর স্পেশাল মামলা নং-৫২/২১ সংক্রান্ত তদন্তের ভিত্তিতে এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারে মো. তাকি আল জাওয়াদকে অন্যতম আসামি করা হয়। দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের আওতাধীন E-Tender ID-127786 এর অধীনে *“Supply of 3 Phase 400 Volt Condenser Motor for China AC Coaches”* শীর্ষক মালামাল ক্রয়ের নামে ৪৪ লাখ ৮ হাজার টাকা সরকারি অর্থ বিল পরিশোধ দেখিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগকারী সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট ক্রয় প্রক্রিয়ার তদন্তে আমদানি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি, যেমন—বিল অব এন্ট্রি, এলসি, উৎপত্তি সনদসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি পাওয়া গিয়েছিল। এসব বিষয় পূর্ণাঙ্গভাবে নিষ্পত্তি না করেই পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
এছাড়া সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, অনুমোদন ছাড়া বিদেশে অবস্থান বা অন্যান্য শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার বিষয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
তবে মো. তাকি আল জাওয়াদকে পুনর্বহালের বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে আনা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এবং চলমান প্রক্রিয়া সম্পর্কে রেলপথ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযোজন করা হবে।