ঢাকা, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

শায়েস্তাগঞ্জের কুতুবের চক রেলগেটে দীর্ঘ সময় গেইটম্যান অনুপস্থিতির অভিযোগনিরাপত্তা জোরদারের দাবি স্থানীয়দের

স্বপন কুমার সিং,বিশেষ সংবাদদাতা।

প্রকাশ: ২৩:৫৮, ৬ জুন ২০২৬

শায়েস্তাগঞ্জের কুতুবের চক রেলগেটে দীর্ঘ সময় গেইটম্যান অনুপস্থিতির অভিযোগনিরাপত্তা জোরদারের দাবি স্থানীয়দের

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের অধীন কুতুবের চক একাডেমি রেলগেটে দায়িত্বপ্রাপ্ত গেইটম্যানের দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তদারকি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত গেইটম্যানের কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। দীর্ঘ সময় অবস্থান করেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এতে রেলগেটের নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে আখাউড়া বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হানিফ বলেন, রেলগেটগুলোতে তিন শিফটে আট ঘণ্টা করে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে জনবল সংকটের কারণে কিছু পদ শূন্য থাকায় তদারকিতে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় একজন হেডম্যান একাধিক গেইটের কার্যক্রম তদারকি করেন। পাশাপাশি রাত ১০টার পর কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং পরিচালনা করা হয় এবং ট্রেন চলাচলের সময় গেইটের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জামাল মিয়া বলেন, “গেইটম্যানকে কখনো পাওয়া যায়, আবার অনেক সময় পাওয়া যায় না।”

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ হাবিলদার মো. জনাব আলী বলেন, “ট্রেন আসার সময় সাধারণত গেইট নামানো অবস্থায় দেখা যায়। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।”

উল্লেখ্য, গত ১ জুন শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা-বাগান এলাকায় কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে একটি ট্রাক্টরের সংঘর্ষে চালক গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

রেল নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্ঘটনা এড়াতে রেলগেটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থার অংশ হিসেবে রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি রেলগেটের কার্যক্রম সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন