ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ ছাড়াই চলল কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, মহেড়ায় না থামায় ব্যাহত স্টাফ পরিবর্তন

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২১:১০, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:১৭, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ ছাড়াই চলল কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, মহেড়ায় না থামায় ব্যাহত স্টাফ পরিবর্তন

বিকল্প রেকে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ৭৯৭ নম্বর আপ কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস মহেড়া স্টেশনে না থামায় নির্ধারিত স্টাফ পরিবর্তন ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ৭৯৮ নম্বর ডাউন কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে দায়িত্ব পালন করা রেলওয়ে পুলিশ, টিটিই, ইলেকট্রিক্যাল স্টাফ, ট্রাবল শুটারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ ৭৯৭ আপ ট্রেনে নির্ধারিত সময়ে যোগ দিতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল ১৩ সেপ্টেম্বর। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ৭৯৮ নম্বর ডাউন ট্রেনের প্রায় সাত ঘণ্টা বিলম্বের কারণে বিকল্প রেকে ৭৯৭ নম্বর আপ কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস পরিচালনা করা হয়। এ পরিস্থিতিতে দুই ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফদের মধ্যে পরিবর্তন ও সমন্বয়ের জন্য মহেড়া স্টেশনে ৭৯৭ আপ ট্রেন থামানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

তবে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী ৭৯৭ আপ মহেড়া স্টেশনে না থামায় স্টাফ পরিবর্তন সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে ট্রেনটিতে নিরাপত্তা, টিকিট পরিদর্শন ও অনবোর্ড যাত্রীসেবার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৭৯৮ নম্বর ডাউন কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের নির্ধারিত ছাড়ার সময় ছিল সকাল ৭টা ১০ মিনিট। তবে প্রায় সাত ঘণ্টা বিলম্বের পর গতকাল দুপুর ২টার দিকে ট্রেনটি কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বিলম্ব কমাতে বিকল্প রেকে ঢাকা থেকে ৭৯৭ নম্বর আপ কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস পরিচালনা করা হয় বলে জানা গেছে।

মহেড়া স্টেশনে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের নিয়মিত যাত্রাবিরতি নেই। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে স্টাফ পরিবর্তনের জন্য সেখানে ট্রেন থামানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, লালমনিরহাট কন্ট্রোল থেকে ৭৯৮ নম্বর ডাউন ট্রেনের গার্ড এনামুল হক এবং ৭৯৭ নম্বর আপ ট্রেনের গার্ড আনোয়ার হোসেনকে স্টাফ পরিবর্তনের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ৭৯৮ ডাউনের গার্ড এনামুল হক জানান, কন্ট্রোলের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি গতকাল রাত ১০টা ৩৭ মিনিটে মহেড়া স্টেশনে ট্রেন থামান। এ সময় ৭৯৭ আপ ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করা হলেও সেটি মহেড়া স্টেশনে না থামায় নির্ধারিত স্টাফ পরিবর্তন সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ৭৯৮ ডাউন ট্রেনে থাকা রেলওয়ে পুলিশ, টিটিই, ইলেকট্রিক্যাল স্টাফ, ট্রাবল শুটার, পিএ অপারেটর, ক্যান্টিন স্টাফ, মোবাইল ক্লিনার ও বেডিং পোর্টারসহ একাধিক স্টাফের ৭৯৭ আপ ট্রেনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৭৯৭ আপ মহেড়া স্টেশনে না থামায় তারা নির্ধারিতভাবে ট্রেন পরিবর্তন করতে পারেননি বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ৭৯৭ নম্বর আপ কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে দুইজন গার্ড, একজন এটেন্ডেন্ট ও একজন পাওয়ারকার ড্রাইভার ছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে। এ অবস্থায় নির্ধারিত স্টাফ পরিবর্তন সম্পন্ন না হওয়ার পর ট্রেনটিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবা কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ৭৯৭ নম্বর আপ কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের গার্ড আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তিনি কন্ট্রোলের নির্দেশনা পেয়েছিলেন কি না, পেয়ে থাকলে মহেড়া স্টেশনে ট্রেন না থামার কারণ কী এবং স্টাফ পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য কী—এসব বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার পর কন্ট্রোলের নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে কীভাবে পৌঁছেছিল, নির্দেশনা অনুযায়ী ৭৯৮ ডাউন মহেড়ায় দাঁড়ালেও ৭৯৭ আপ কেন দাঁড়াল না এবং স্টাফ পরিবর্তন সম্পন্ন না হওয়ার পর ৭৯৭ আপে প্রয়োজনীয় জনবল কীভাবে সমন্বয় করা হয়েছিল—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।

এ ছাড়া ৭৯৭ আপ মহেড়া স্টেশনে না থামার পেছনে পরিচালনাগত, যোগাযোগজনিত বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার বিষয়ে প্রকাশের সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে ৭৯৭ আপ মহেড়া স্টেশনে না থামার কারণ এবং স্টাফ পরিবর্তনের বিষয়ে তাদের অবস্থান প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন