শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২:১৭, ১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৭, ১ অক্টোবর ২০২৬
সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের শত শত একর জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে। সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশনের রেললাইনের পাশেই দখল করে হচ্ছে সিএনজি স্ট্যান্ড। অসহায় রেলওয়ের কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, এবার স্বয়ং রেলওয়ের এক কর্মকর্তা দখল থাকাতে অসহায় হয়ে রেলওয়ের জিআরপি বাজার স্টেশন থানার দ্বারস্থ হয়েছেন।
তথ্য বলছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে, ঈশ্বরদী ও উল্লাপাড়া ফিল্ড ১১ নং ও ১২ নং কাচারীর দায়িত্বে কানুনগো (অঃ দাঃ) আবু বকর সিদ্দিক গত ৩০ আগষ্ট সিরাজগঞ্জ বাজার ষ্টেশন পরিদর্শন করে। এসময় আবু বকর জানান, সিরাজগঞ্জ বাজার ষ্টেশন এলাকার পূর্বে পার্শ্বে জি আরপি থানার পিছনে বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকাধীন সিরাজগঞ্জ সদর মৌজা- রায়পুর জে.এল নং- ১৯০ দাগ নং- ২০০১/অংশ তফসিল ভূক্ত ভূমিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে কে বা কাহারা রেলওয়ের পুকুর ভরাট করছে এবং রেল লাইনের ২০ ফুটের মধ্যে রেলওয়ের জায়গায় বালু ফেলছে। রেলওয়ের পুকুর অবৈধভাবে ভরাট করা ও রেলওয়ের জায়গায় বালু ফেলা রেলওয়ে আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে ধ্বংসাত্বক কাজ বন্ধ করার জন্য জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর সহায়তার জন্য আবেদন করি। বিষয়টি অতীব জরুরী ভাবে দেখার জন্য অনুরোধ করি।
এসময় তিনি আরও জানান, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে রেলওয়ের পুকুর অবৈধভাবে ভরাট করা ও রেলওয়ের জায়গায় বালু ফেলা বন্ধ করণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করি।
এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, আমি পৌরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, এখানে জেলা প্রশাসক থেকে অনুমতি নিয়ে মাটি ভরাট করা হচ্ছে।
এসময় জিআরপি থানার অফিসারকে আপনি কি ব্যবস্থা নিয়েছেন, প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আপনি অফিসে আসেন বলে ফোন কেটে দেন।
এবিষয়ে পাকশীর বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মৌখিকভাবে সিএনজি মালিক সমিতির জন্য কিছু জায়গা চেয়েছিল কিন্তু এখনও ইজারা হয়নি। চলন্ত লাইনের পাশে সিএনজি স্ট্যান্ড হচ্ছে আমি জানি না, বিষয়টি আমি দেখছি।
উল্লেখ্য যে, সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের প্রায় ৫ শ ৪৫ একর জায়গার মধ্যে ২ একর জায়গার রাজস্ব পায় নামমাত্র। জেলার উল্লাপাড়া, কামারখন্দ এবং সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের ইয়ার্ড, দোকান ও অন্যান্য থেকে ২৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। যা বানিজ্যিক হার ৪৫ টাকা করে হলে ১ একর জায়গার রাজস্ব মাত্র। বিপরীতে প্রতি বছর ভূমি মন্ত্রণালয়কে এই জায়গা বাবদ ১৫ লক্ষ লক্ষ টাকা খাজনা পরিশোধ করে থাকে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অথচ সম্পূর্ণ জায়গা যদি সরকার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারত তাহলে শত কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতো বলে জানান রেলওয়ে কর্মকর্তারা । রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার চার বছর ধরে এল এ শাখায় পড়ে আছে সাড়ে তিন কোটি টাকা।