ঢাকা, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি সিলেট-ছাতক রেল সংস্কার

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২:৫৫, ১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৫, ১ অক্টোবর ২০২৬

মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি সিলেট-ছাতক রেল সংস্কার

নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও সিলেট-ছাতক রেললাইন সংস্কার প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতি ও রেল বিভাগের তদারকির ঘাটতির অভিযোগের মধ্যে থমকে আছে প্রকল্পের কাজ। এর ফলে দীর্ঘ চার বছর ধরে এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সুনামগঞ্জের ছাতক ও সিলেট অঞ্চলের মানুষ।

জানা যায়, সিলেট থেকে সুনামগঞ্জের ছাতক বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথটি নির্মিত হয় ১৯৫৪ সালে। ঐতিহাসিক এই রেলপথ দিয়ে ছাতক থেকে চুনাপাথরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হতো। পাশাপাশি সুনামগঞ্জের মানুষ সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যাতায়াতের জন্য এই রেলপথ ব্যবহার করতেন।

তবে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় রেলপথটির বিভিন্ন অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকেই এই রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রেলপথটি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা ব্যয়ে সিলেট থেকে ছাতক বাজার অংশের মিটারগেজ ট্র্যাক পুনর্বাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটির অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেড।

প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ২০ শতাংশ কাজও সম্পন্ন হয়নি বলে জানা গেছে। নতুন রেললাইন স্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ এখনো বাকি রয়েছে। ফলে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এবং এই রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সড়কপথে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। সিদ্দিকুর রহমান নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, রেলে চলাচল করলে ভাড়া অনেক কম লাগে। অন্য পরিবহনে যাতায়াতে খরচ বেশি হয়। দ্রুত কাজ শেষ করে রেল যোগাযোগ চালুর দাবি জানান তিনি।

মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, শুরু থেকেই ধীরগতিতে কাজ চলছে। এভাবে চললে আরও কত বছর লাগবে তা বলা কঠিন। ঠিকাদাররা নিজেদের মতো করে কাজ করছেন, পর্যাপ্ত তদারকি নেই। দ্রুত কাজ শেষ করে রেল চলাচল সচল করার দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, রেল যোগাযোগ চালু থাকলে কম খরচে কাঁচামালসহ অন্যান্য মালামাল সিলেটে নেওয়া যেত। এখন সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা সড়কপথে পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।

মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহনাজ বেগম বলেন, রেল যোগাযোগ চালু থাকলে সিলেটে যাতায়াত অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হতো। দ্রুত সময়ের মধ্যে রেলপথটি সংস্কার করে ট্রেন চলাচল চালুর দাবি জানান তিনি।

কাজের দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের প্রকল্প প্রকৌশলী সজিবুর রহমান বলেন, উপকরণ ও সরঞ্জাম আমদানিতে এলসি জটিলতা এবং অতিবৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে পর্যাপ্ত মালামাল রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাজের গতি আরও বাড়ানো হবে এবং বর্ধিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার আশা রয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন