ঢাকা, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

কর্মস্থলে তিন মাস নেই গেটম্যান, মাস্টার রোলে স্বাক্ষর স্টেশন ইনচার্জের—অভিযোগ

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২:৪৪, ১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪৫, ১ অক্টোবর ২০২৬

কর্মস্থলে তিন মাস নেই গেটম্যান, মাস্টার রোলে স্বাক্ষর স্টেশন ইনচার্জের—অভিযোগ

ফরিদপুর রেলওয়ে স্টেশনে কর্মরত এক গেটম্যান দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও হাজিরা খাতায় নিয়মিত উপস্থিত দেখানো এবং বেতন-ভাতার জন্য মাস্টার রোলে স্বাক্ষর দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে  স্টেশন ইনচার্জ প্রহ্লাদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে।  সরকারি কর্মচারীর উপস্থিতি ও বেতন-ভাতা সংক্রান্ত নথি জালিয়াতি এবং সরকারি অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে উত্তোলনের মতো গুরুতর বিষয় সামনে এসেছে ।
 ফরিদপুর রেলওয়ে স্টেশনের গেটম্যান আনিস মাতুব্বর গত ৭ জুলাই ২০২৬ থেকে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। ওই সময়ে তিনি কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন না করলেও জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের হাজিরা খাতায় তাকে উপস্থিত দেখানো হয়েছে ।

শুধু হাজিরা খাতায় উপস্থিত দেখানো নয়, বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত মাস্টার রোলে তার স্বাক্ষরও রয়েছে। ফলে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা অবস্থায় তার নামে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হওয়ায় তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একজন গেটম্যান যদি দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন না করেন, তাহলে তার অনুপস্থিতির বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নজরে আসার কথা। কিন্তু তাকে নিয়মিত উপস্থিত দেখিয়ে হাজিরা সংরক্ষণ করা হয়ে থাকলে, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে বেতন-ভাতা উত্তোলন হয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের দাবি, আনিস মাতুব্বরের মাদক নিরাময় কেন্দ্রে অবস্থানের বিষয়টি যাচাই করার মতো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যও রয়েছে। এসব তথ্য যাচাই করা হলে তিনি নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে ছিলেন কি না, তা সহজেই নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে স্টেশন ইনচার্জ প্রহ্লাদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার দাবি করেছেন স্থানীয় সূত্রের কয়েকজন। স্থানীয় পত্রিকায় স্টেশন ভবনে বহিরাগতদের নিয়ে তাস ও মাদকের আসর বসানোর অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। 

এছাড়া স্টেশন ভবনের গেস্ট হাউসে বসবাস এবং এ সময়ে সরকারি বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। গেস্ট হাউসে বসবাসের ক্ষেত্রে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল কি না, সরকারি সম্পদ ব্যবহারের নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কি না—সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হচ্ছে, কর্মস্থলে অনুপস্থিত একজন গেটম্যানকে হাজিরা খাতায় উপস্থিত দেখিয়ে এবং মাস্টার রোলে স্বাক্ষর দেখানোর মাধ্যমে তার বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে কি না। 

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্টেশন ইনচার্জ প্রহ্লাদ বিশ্বাস  প্রাথমিকভাবে  রেলনিউজের কাছে  স্বীকারোক্তি দিয়েছো  স্বাক্ষরের বিষয় সে স্বীকার করেছেন । একইভাবে গেটম্যান আনিস মাতুব্বর কেন দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন, তার ছুটি বা অনুমোদনের কোনো নথি রয়েছে কি না এবং তার অনুপস্থিতির বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে কি না—এসব বিষয়ও কোন ব্যাখ্যা দিতে পারিনি ।

অভিযোগকারীরা বলছেন, হাজিরা খাতা, মাস্টার রোল, বেতন-ভাতা সংক্রান্ত নথি, দায়িত্ব পালনের রোস্টার এবং আনিস মাতুব্বরের মাদক নিরাময় কেন্দ্রে অবস্থানের তথ্য যাচাই করলেই অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসতে পারে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে সরকারি অর্থের কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন