শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯:০৭, ১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:০৮, ১ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট–তেজগাঁও সেকশনের কিলোমিটার ৩১৪/৬-৭ এলাকায় লেভেল ক্রসিং গেটে ছয়জন অস্থায়ী টিএলআর (গেটকিপার) নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব), বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রামের মঞ্জুরি ও অনুমোদনের মাধ্যমে ওই ছয়জনকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
নিয়োগ পাওয়া ছয়জনের মধ্যে সিফাত মুন্সী, পিতা—রউফ মুন্সী, গেট নম্বর টি-৯/বি-তে দায়িত্ব পান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে নিয়োগে থাকলেও নিয়মিত ডিউটি পালন করতেন না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ নিয়ে নিয়মিত দায়িত্বে উপস্থিত না থেকেও মাসের পর মাস হাজিরা শিটে স্বাক্ষর করে বেতন গ্রহণ করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই গেটে অস্থায়ী নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গেটটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রধান প্রকৌশলীর অনুরোধে সিফাত মুন্সীকে ই/১৩ নম্বর গেটে অস্থায়ী গেটকিপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও তিনি নিয়মিত ডিউটিতে উপস্থিত থাকতেন না বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে ই/১১ নম্বর গেটে বদলি করা হয়।
তবে ই/১১ নম্বর গেটেও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে হঠাৎ গেটে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যেতেন। অন্য গেটে বদলি করার পরও মাসে একবার এসে হাজিরা দিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সিফাত মুন্সী কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সিফাত মুন্সীর দায়িত্বে অনুপস্থিতি, নিয়মিত ডিউটি না করা এবং হাজিরা সংক্রান্ত বিষয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ ও প্রধান প্রকৌশলীর কাছে একাধিকবার গুরুতর অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে দায়িত্বে অনুপস্থিত থেকেও কীভাবে নিয়মিত হাজিরা দেখানো হয়েছে এবং বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।