ঢাকা, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে কমেছে ভবঘুরে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ কতটা টেকসই?

শাহ সারওয়ার: কিশোরগঞ্জ

প্রকাশ: ১১:৫১, ১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫২, ১ অক্টোবর ২০২৬

কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে কমেছে ভবঘুরে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ কতটা টেকসই?

কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে আগের তুলনায় কমেছে ভবঘুরে ও ছিন্নমূল মানুষের আনাগোনা। একই সঙ্গে স্টেশন চত্বরের পরিবেশেও এসেছে কিছুটা পরিবর্তন। যাত্রীদের চলাচল ও অপেক্ষার জায়গাগুলো তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন ও স্বস্তিদায়ক দেখা যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক এই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হবে—তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করা এক ভবঘুরে ও মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে স্টেশন মাস্টার মো. খলিলুর রহমান বলেছেন, স্টেশনে সাধারণত কোনো ভবঘুরে স্থায়ীভাবে থাকে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতে স্টেশন চত্বরের বিভিন্ন অংশে ভবঘুরে ও ছিন্নমূল মানুষের অবস্থান, ময়লা-আবর্জনা এবং অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অস্বস্তি ছিল। বর্তমানে সেই চিত্র কিছুটা বদলেছে। কিন্তু নিয়মিত নজরদারি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত না থাকলে পুরোনো পরিস্থিতি ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।


সাময়িক পরিবর্তন, নাকি স্থায়ী ব্যবস্থাপনা?
প্রশ্নটি এখন শুধু ভবঘুরে কমেছে কি না—এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। তাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান কীভাবে হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে স্টেশন থেকে সরিয়ে দেওয়া আর তাকে পুনর্বাসন করা এক বিষয় নয়। চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না থাকলে সমস্যাটি অন্যত্র স্থানান্তরিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় কাঠামো রয়েছে। ২০২৬ সালের জুন মাসের সংশ্লিষ্ট নথিতেও রেলওয়ের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।


পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নজরদারি কতটা?
স্টেশন পরিচ্ছন্ন রাখতে শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। কোথায় ময়লা জমছে, ডাস্টবিন ব্যবহার হচ্ছে কি না, প্ল্যাটফর্ম ও যাত্রী ছাউনিতে নিয়মিত পরিষ্কার হচ্ছে কি না—

এসব বিষয়েও কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।এ ব্যাপারে জিআরপি থানা অফিসার ইনচার্জ বাহাউদ্দীন ফারুকী বলেছেন 
কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশন  জেলার গুরুত্বপূর্ণ যাত্রীসেবা কেন্দ্র। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখান থেকে ট্রেনে যাতায়াত করেন।

ফলে স্টেশনের পরিবেশ শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও যুক্ত।

রেলওয়ে থানা পুলিশ এ ব্যাপারে সোচ্চার। একসপ্তাহে দুটি ঘটনায় মাদক বিক্রেতা দের আটক করা হয়।

বর্তমানেও জেল হাজতে আছে। আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি পরিছন্ন ও নিরাপদ রাখতে। জানিনা কতটুকু পারতেছি। 

ট্রনের নিয়মিত যাএী  জিবিসি  টিভি' র রিপোটার মোঃ আল-আমীন ও রেলস্টেশন এলাকার বাসিন্দা মোঃ দুলাল মিয়া ( ব্যবসায়ী)  ও  নির্মাণ প্রকৌশলী  গোলাপ মিয়া  ষ্টেশন সম্পর্কে বলেন -
যাত্রীদের প্রত্যাশা, ভবঘুরে কমে যাওয়া এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশের যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তা যেন সাময়িক না হয়। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন,

নজরদারি এবং প্রয়োজন হলে ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় মানুষের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।


এখন দেখার বিষয়—কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনের বর্তমান পরিচ্ছন্ন ও তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিয়মিত ব্যবস্থাপনার ফল হয়ে টিকে থাকে,

নাকি কিছুদিন পর আবারও পুরোনো চিত্র ফিরে আসে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন