ঢাকা, রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

৭৮ লাখ টাকার রেলস্টেশনে থামে না ট্রেন : চুরি হচ্ছে মালামাল

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২:৪০, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪০, ১০ অক্টোবর ২০২৬

৭৮ লাখ টাকার রেলস্টেশনে থামে না ট্রেন : চুরি হচ্ছে মালামাল

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাটিয়াজুরী রেলস্টেশনে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক স্টেশন ভবন। নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। তবে সেখানে থামে না কোনো ট্রেন। লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বিপুল সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনটি কোনো কাজেই আসছে না। দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকায় স্টেশনটির বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে যাচ্ছে।

হবিগঞ্জের বাহুবল ও চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী ঢাকা-সিলেট রেলপথের ঐতিহ্যবাহী স্টেশন এই সাটিয়াজুরী। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন ভবন তৈরি হলেও স্টেশনের সার্বিক কার্যক্রম চালু হয়নি। স্টেশনটি অকার্যকর থাকায় দুই উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আদৌ এই স্টেশন চালু হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় নবনির্মিত ভবন ও প্ল্যাটফর্মের মালামাল খোয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি রাতের আঁধারে স্টেশন চত্বরে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক সেবনের আড্ডা বসছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত সাটিয়াজুরী স্টেশনটি দীর্ঘকাল সচল ছিল। পরবর্তীতে লোকবলসহ নানা সংকটে ১৯৯৮ সালে এটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ দুই যুগ পর এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণ শুরু হয় এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা কাজী সুজন বলেন, 'সাটিয়াজুরী স্টেশন পুরোদমে চালু হলে বাহুবল ও চুনারুঘাট উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ স্বল্প খরচে ঢাকা ও সিলেটে যাতায়াত করতে পারবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষিপণ্য সহজে পরিবহনের ফলে এলাকার অর্থনীতি গতি পাবে।'

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ রুটে চলাচলকারী লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় সাটিয়াজুরী স্টেশনে ট্রেন থামানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে ইঞ্জিন ও চালকসংকটের কারণে ২০১৯ সালে ‘সুরমা মেইল’ ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মূলত এটি ‘ডি’ শ্রেণির স্টেশন হওয়ায় এবং পৃথক লুপ লাইন না থাকায় অন্যান্য ট্রেন থামানোর প্রযুক্তিগত সুযোগ সীমিত।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফুয়াদ হোসেন আনন্দ বলেন, 'ইঞ্জিনস্বল্পতার কারণে সুরমা মেইল বন্ধ হওয়ার পর থেকেই এখানে কোনো ট্রেন দাঁড়াচ্ছে না।'

ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আহসান হাবিব জানান, নতুন করে ট্রেন চলাচল শুরু হলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে কর্মচারী ও জনবল পদায়ন করা হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন