শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:৪৪, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৫, ১০ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে মেট্রো স্টেশন বন্ধ ও ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনের (ডিএমআরসি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এ আবেদন জমা দেওয়া হয়। আবেদনকারীর অভিযোগ, জনপরিবহন পুরোপুরি বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রিতভাবে চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ তা যথাযথভাবে কার্যকর করেনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস ও লাইভল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠি এ আবেদন করেছেন। আবেদনকারী অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও কর্তৃপক্ষ জনপরিবহনে ব্যাপক বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জনপরিবহনে অযৌক্তিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মেট্রো স্টেশন বন্ধ ও ট্রেন চলাচল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুক্রবার করেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি করা হয়।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে নিরাপত্তার অজুহাতে জনপরিবহন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলে অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি করা যাবে না।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘একটি মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করবেন না।’ অর্থাৎ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপ যেন প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কঠোর না হয়।
আদালত আরও জানায়, মেট্রো ও ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা যাবে না। বরং পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে দিল্লির সাধারণ নাগরিকদের দুর্ভোগ পোহাতে না হয়।
তবে আদালত আবেদনটির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোও এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
সিজেপির বিক্ষোভ সামনে রেখে দিল্লি পুলিশ প্রথমে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর ডিএমআরসি সেই সংখ্যা কমিয়ে ৪৫টি করে।
ডিএমআরসি জানায়, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এসব স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ থাকবে। তবে নিউ দিল্লি মেট্রো স্টেশন ছাড়া অন্য স্টেশনগুলোতে ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা চালু রাখার কথা জানানো হয়।
এদিকে, শনিবার সকাল ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনে আসা-যাওয়া করা একাধিক মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়।