ঢাকা, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

নতুন ও বন্ধ রুটে ট্রেন চালুর তোড়জোড়

প্রকাশ: ১৮:৩৫, ২৪ জুলাই ২০২৬

নতুন ও বন্ধ রুটে ট্রেন চালুর তোড়জোড়

দেশে গত পাঁচ বছরে একাধিক নতুন রেলপথ নির্মিত হলেও তীব্র কোচসংকটের কারণে এতদিন এসব রুটে কাক্সিক্ষত ট্রেন চালু করতে পারেনি বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে শিগগিরই এ অচলাবস্থার অবসান হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, আগামী আগস্টে আমদানিকৃত ২০০টি নতুন ব্রডগেজ কোচ দেশে আসা শুরু হবে। এ চালানটি এলে পর্যায়ক্রমে নতুন নতুন রুটে ট্রেন বাড়ানোর পাশাপাশি বন্ধ থাকা রুটগুলোও সচল করা সম্ভব হবে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দীন বলেন, আগস্টে ভারত থেকে ২০০টি রেলওয়ে ক্যারেজ বা কোচ আসার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এগুলো যুক্ত হওয়ার পর নতুন রুটগুলোতে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রেলওয়ে সূত্রমতে, ২০১৮ সালে যমুনা সেতু-পাবনা, ২০২২ সালে ঢাকা-পদ্মা সেতু-যশোর ও ঢাকা-পদ্মা সেতু-ফরিদপুর এবং ২০২৪ সালে খুলনা-মোংলা রেলপথ চালু করা হয়। তবে ব্রডগেজ ইঞ্জিন ও কোচের তীব্র স্বল্পতার কারণে এসব সম্ভাবনাময় রুটে পর্যাপ্ত ট্রেন দেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি যমুনা সেতু-পাবনা ও খুলনা-মোংলা রুটে এখন পর্যন্ত কোনো আন্তনগর ট্রেনই চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘ভারতীয় নতুন কোচ বহরে যুক্ত হওয়া মাত্রই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঢাকা-পাবনা রুটে প্রথম আন্তনগর ট্রেন চালু করা হবে। এরপর ঢাকা-খুলনা রুটে আরেকটি আন্তনগর ট্রেন চালানো হবে। এমনকি এ ট্রেনটিকে মোংলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা যায় কি না, তা নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।’ তিনি বলেন, ‘নতুন কোচ আসার পর রাজশাহীতে চলাচলকারী পাঁচটি ট্রেনের পুরোনো কোচগুলো প্রতিস্থাপন করা হবে। সেখান থেকে অবমুক্ত হওয়া কোচ এবং অন্যান্য পুরোনো কোচ দিয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে একটি নতুন কমিউটার ট্রেন চালানো হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বিভিন্ন লোকাল, কমিউটার ও মেইল ট্রেনগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ এদিকে, পদ্মা সেতু দিয়ে সরাসরি নতুন রেলপথ চালুর পরও ঢাকা-খুলনা রুটে ‘রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস’ ছাড়া অন্য কোনো নতুন ট্রেন দেওয়া হয়নি। সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তন করে যমুনা সেতুর বদলে পদ্মা সেতু দিয়ে চালানো হচ্ছে। তবে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি থাকা সত্ত্বেও ট্রেনগুলো সরাসরি যশোর রুটে না চলে, ফরিদপুর-কুষ্টিয়া হয়ে ঘুরতি পথে যাতায়াত করছে। এ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্যসচিব জিল্লুর রহমান ভিটু।

তিনি বলেন, ‘যশোর থেকে কোনো প্রভাতি ট্রেন নেই, যা অত্যন্ত জরুরি। বেনাপোল, খুলনা ও দর্শনা থেকে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি চারটি ট্রেন দ্রুত চালু করা না হলে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।’ রেলওয়ের আধুনিকায়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে সম্প্রতি সংসদে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ ও রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে অদূর ভবিষ্যতে আরও ২৬০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ, ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ৫০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য প্রকল্প অনুমোদনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন