শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২:২২, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:২২, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ট্রেনের দীর্ঘ বিলম্বের কারণে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগে এক যাত্রীকে ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল উপভোক্তা কমিশন। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা হয়রানির ক্ষতিপূরণ এবং ৫ হাজার টাকা মামলার খরচ বাবদ দিতে হবে রেলকে। নির্ধারিত ৪৫ দিনের মধ্যে ওই অর্থ পরিশোধ করা না হলে মোট টাকার উপর বার্ষিক ১২ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে বলেও জানায় কমিশন।
ভারতের টাটানগর থেকে সম্বলপুর যাওয়ার জন্য ইস্পাত এক্সপ্রেসের স্লিপার ক্লাসের দুটি টিকিট কেটেছিলেন সঞ্জয় কুমার। ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে টাটানগর থেকে ছেড়ে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে সম্বলপুর পৌঁছনোর কথা ছিল ট্রেনটির। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ৫২৮ মিনিট, অর্থাৎ ৮ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট দেরিতে সম্বলপুরে পৌঁছায় ট্রেনটি।
ট্রেনের এই দীর্ঘ বিলম্বের কারণে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করে উপভোক্তা কমিশনের দ্বারস্থ হন সঞ্জয়। তিনি সাড়ে চার লাখ টাকা ক্ষতিপূরণও দাবি করেন।
অভিযোগের সমর্থনে টিকিট এবং রেলকে পাঠানো একটি আইনি নোটিশ কমিশনে জমা দেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, বিষয়টি রেলওয়ে ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় পড়ে বলে দাবি করে কমিশনের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলে তারা।
রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সঞ্জয় নোটিশ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানেননি। তাদের আরও দাবি, ট্রেন দেরি হওয়ার কারণে আর্থিক ক্ষতির যে অভিযোগ যাত্রী করেছেন, তার পক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণও তিনি দিতে পারেননি।
উপভোক্তা কমিশনের সভাপতি সুনীলকুমার সিংহ এবং সদস্য প্রদীপকুমার মিশ্র ও সঞ্জু শাহীর বেঞ্চ প্রথমে কমিশনের এখতিয়ার নিয়ে রেলের আপত্তি খতিয়ে দেখে। ট্রেনের বিলম্বের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের উল্লেখ করে বেঞ্চ জানায়, সঞ্জয় কুমারের অভিযোগ শোনার এখতিয়ার উপভোক্তা কমিশনের রয়েছে।
কমিশন জানায়, ‘ট্রেনের ওই দেরি যে তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল, সে কথা রেল কর্তৃপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি। তাই আমরা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীর দাবিতে যথেষ্ট সারবত্তা খুঁজে পাই। এই মামলাটির বিচার করার এক্তিয়ার এই কমিশনের রয়েছে।’
এর পর সঞ্জয়ের অভিযোগ অনুযায়ী তার হয়রানির বিষয়টি বিবেচনা করে কমিশন। এ ক্ষেত্রে টিকিটসহ অন্যান্য নথির উপর নির্ভর করে কমিশন। তাদের পর্যবেক্ষণ, ‘অভিযোগকারী জোরালো এবং বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন, ট্রেন দেরিতে চলার কারণে তিনি শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। পরিষেবায় গাফিলতির জন্য অভিযোগকারী প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী।’
এর আগে একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছিল, যাত্রীদের সময় অত্যন্ত মূল্যবান। তাই ট্রেনের বিলম্বের কারণ রেলকে ব্যাখ্যা করতে হবে এবং সেই বিলম্ব কখন ও কী কারণে তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল, তার প্রমাণও দিতে হবে। সঞ্জয়ের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণকেও গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন।
সঞ্জয়ের অভিযোগ আংশিক মঞ্জুর করে উপভোক্তা কমিশন রেলকে ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ এবং ৫ হাজার টাকা মামলার খরচ বাবদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে ১২ শতাংশ হারে সুদও দিতে হবে।