শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬:৩৯, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৩৯, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পেট্রোলিয়াম লেভি বা জ্বালানির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক বাতিল করা না হলে চলমান বিক্ষোভ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) করাচির ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার পর ট্রেনমার্চে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, লেভি প্রত্যাহার না করা হলে আন্দোলনের পরিধি আরও বাড়তে পারে।
নাঈমুর রহমান জানান, করাচি থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি হায়দরাবাদ, লান্ডি, নওয়াবশাহ, রোহরি ও সুক্কুর হয়ে ইসলামাবাদে যাবে। সেখানে নারীদেরও আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি ও জনগণকে একটি অভিন্ন অবস্থানে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। চলমান কর্মসূচিকে তিনি ‘বিপ্লবী সংগ্রাম’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন রুট দিয়ে মানুষ ইসলামাবাদের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। এ আন্দোলনের লক্ষ্য হলো সবচেয়ে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানো। যেসব মানুষ অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে পারেন না, তারাও বর্তমান পরিস্থিতিতে চরম সংকটে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের নীতির সমালোচনা করে নাঈমুর রহমান বলেন, ‘মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার পরিবর্তে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তাদের খারাপ শাসনের মূল্য জাতিকে দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দাবি করছি, লেভির নামে এই চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। তাহলে পেট্রোলের দাম দ্রুত কমে প্রতি লিটারে প্রায় ২০০ রুপিতে নেমে আসবে। তখন অর্থনীতি এগিয়ে যেতে পারবে।’
পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি বাড়ানো হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে সরকার সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে নাঈমুর রহমান পেট্রোলিয়াম, গম ও চিনি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ‘মাফিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার ভাষ্য, ‘এই কার্টেল পাকিস্তানের মানুষকে লুট করছে। আমরা যদি এটা সহ্য করতে থাকি, তাহলে তারা আমাদের আরও লুট করবে।’
তিনি বলেন, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মানুষকে ঘর থেকে বের হয়ে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নাঈমুর রহমানের দাবি, গত ৩৬ থেকে ৩৭ দিন ধরে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ চলছে। হায়দরাবাদ, সুক্কুর, মিরপুর খাস, লারকানা, নওশাহরো ফিরোজ, রাওয়ালপিন্ডি, গুজরাট ও খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন শহরে কর্মসূচি চলছে বলেও জানান তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী পুরো পাকিস্তানকে সংগঠিত করেছে।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কোনো বাধাই বিক্ষোভকারীদের থামাতে পারবে না।
লেভি বহাল রাখা হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে উল্লেখ করে নাঈমুর রহমান বলেন, একপর্যায়ে এটি সরকার হটানোর আন্দোলনে পরিণত হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যখন ইসলামাবাদে পৌঁছাব, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।’
সরকার আন্দোলন দমনের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
জ্বালানি লেভি প্রত্যাহারের দাবিতে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ধারাবাহিক বিক্ষোভ করছে জামায়াতে ইসলামী। বর্তমানে এই লেভির পরিমাণ প্রতি লিটারে ১০০ রুপিরও বেশি বলে দলটি দাবি করছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, নাঈমুর রহমানের নেতৃত্বে করাচি থেকে শুরু হওয়া ট্রেনমার্চ রোববার রাতে রোহরি ও সুক্কুরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে রাত ৮টায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সোমবার বিক্ষোভকারীরা মুলতানের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।