শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫:১৮, ৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:১৮, ৬ অক্টোবর ২০২৬
ইংল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ট্রেনে ছারপোকার উপদ্রবের ঘটনায় বেশ কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। আক্রান্ত ট্রেনগুলো পরিষ্কার ও কীটপতঙ্গমুক্ত না করা পর্যন্ত সেগুলো চলাচল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সাউথইস্টার্নের একাধিক ট্রেনে ছারপোকা শনাক্ত হওয়ার পর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, পূর্ব সাসেক্সের হেস্টিংসের কাছে ওয়েস্ট মেরিনা ট্রেন কেয়ার ডিপো থেকে সমস্যাটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই ডিপো থেকে লন্ডন ও কেন্টের মধ্যবর্তী রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। হাই স্পিড ওয়ান লাইনের ট্রেনেও ছারপোকা দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রেলকর্মীদের অভিযোগ, শুধু যাত্রীবাহী বগিতেই নয়, চালকদের ড্রাইভিং ক্যাব এবং ব্যক্তিগত ব্যাগের ওপরও ছারপোকা দেখা গেছে। পরিস্থিতির কারণে কয়েকজন চালক আক্রান্ত ট্রেনে উঠতে অস্বীকৃতি জানান এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি করেন।
সাউথইস্টার্নের অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রথম ছারপোকা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে একাধিক ট্রেনের যাত্রা বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে একদিনেই অন্তত তিনটি ট্রেনের যাত্রা বাতিলের ঘটনা ঘটে।
রেলকর্মীদের মধ্যে একটি ট্রেন ‘বেডবাগ এক্সপ্রেস’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। ওই ট্রেনের দুটি বগিতে ছারপোকা শনাক্ত হওয়ার পর সেগুলো তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। তবে অভ্যন্তরীণ লগ অনুযায়ী, আক্রান্ত ট্রেনটি পুরোপুরি রুট থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে কিছু সময় চলাচল করেছিল।
এক পর্যায়ে আক্রান্ত ট্রেন সরানোর জন্য চালককে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পোশাক ছাড়া ট্রেনে উঠতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ওই ট্রেনের কারণে আরও দুটি ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওয়েস্ট মেরিনা ডিপোতে কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের ডাকা হয়। ডিপোর আশপাশে পেস্ট কন্ট্রোল প্রতিষ্ঠানের গাড়িও দেখা যায়।
এদিকে রেল, মেরিটাইম অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট বা আরএমটি ইউনিয়ন জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে এবং যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে সাউথইস্টার্ন কর্তৃপক্ষ বলছে, মোট চারটি ট্রেনে ছারপোকার উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি ট্রেনে পোকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সেগুলো সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার ও পরীক্ষা করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির হেড অব ড্রাইভার্স অলি টার্নার জানান, কোনো ট্রেনে ছারপোকার খবর পাওয়া গেলে সেটি পরীক্ষা করা হয় এবং ঝুঁকি না থাকলে পুনরায় চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।
সাউথইস্টার্নের দাবি, এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ট্রেনের চালকদের ক্যাবে ছারপোকা পাওয়া গেছে। যাত্রীদের বসার আসন বা সাধারণ যাত্রীবাহী অংশে ছারপোকা পাওয়ার তথ্য তারা পায়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রেন ও স্টেশনগুলোতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।