ঢাকা-কলকাতা রেলপথে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় ট্রেনটিকে বর্তমান যমুনা সেতু-দর্শনা রুটের পরিবর্তে পদ্মা সেতু-বেনাপোল হয়ে কলকাতায় চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভারত।
শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬:৫৭, ৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:০১, ৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা-কলকাতা রেলপথে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় ট্রেনটিকে বর্তমান যমুনা সেতু-দর্শনা রুটের পরিবর্তে পদ্মা সেতু-বেনাপোল হয়ে কলকাতায় চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভারত।
সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৩৮তম বাংলাদেশ-ভারত আন্ত সরকার রেলওয়ে বৈঠকে (ইন্টার-গভর্নমেন্টাল রেলওয়ে মিটিং-আইজিআরএম) মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয় ভারতীয় পক্ষ। বৈঠকে বাংলাদেশ জানায়, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাওয়া গেলে তা যাচাই করা হবে।
ভারতের রেলওয়ের প্রস্তাবে জানানো হয়েছে, পদ্মা সেতু-বেনাপোল রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু হলে ঢাকা থেকে কলকাতা যেতে সময় প্রায় তিন ঘণ্টা কমে ছয় ঘণ্টায় নেমে আসতে পারে। একই সঙ্গে টিকিটের ভাড়া প্রায় এক হাজার টাকা কমতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যেই নতুন এই রুটের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে সময় ও ভাড়া কমার বিষয়টি এখনো সম্ভাব্য হিসাব।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারত কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। এরপর কারিগরি ও পরিচালনাগত সক্ষমতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ বাংলাদেশ-ভারতের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। বন্ধ রয়েছে দুই দেশের মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী, মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেস।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতু দিয়ে এর আগে কোনো আন্তর্দেশীয় ট্রেন চলাচল করেনি। ফলে নতুন রুটে ট্রেন চালানোর আগে কারিগরি ও পরিচালনাগত সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। তবে পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চললে যাত্রাপথের দূরত্ব কমবে এবং যাত্রীদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হতে পারে। দূরত্ব কমলে ভাড়াও পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পদ্মা সেতু দিয়ে কোনো আন্তর্দেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল না করায় নতুন রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালানোর আগে কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে রেলপথের সক্ষমতা, ট্রেনের সময়সূচি, সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ ও ভারতের রেল অবকাঠামোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়।
মৈত্রী এক্সপ্রেস বন্ধ হওয়ার আগে ট্রেনটি বাংলাদেশি যাত্রীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিল। রেলওয়ে সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত এই ট্রেনে মোট দুই লাখ ৮৮ হাজার ৩৬০ জন যাত্রী ভ্রমণ করেছে। তাদের প্রায় ৯৫ শতাংশই ছিল বাংলাদেশের নাগরিক।
সাধারণ সময়ে ট্রেনটির গড় আসন পূর্ণতার হার ছিল ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ। ঈদ ও দুর্গাপূজার মতো উৎসবের ছুটিতে এ হার ৯৫ শতাংশের বেশি হয়ে যেত।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মৈত্রী এক্সপ্রেসের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সময় দুই দেশের মধ্যে চলাচলকারী মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেসও বন্ধ রয়েছে। আন্তঃসীমান্ত যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনার স্মারক চুক্তি অনুযায়ী, মৈত্রী এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রির মোট আয়ের ৭৫ শতাংশ পায় বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং ২৫ শতাংশ ভারতীয় রেলওয়ে।
জানা গেছে, চলাচল বন্ধ হওয়ার আগে মৈত্রী এক্সপ্রেস টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু-ঈশ্বরদী-দর্শনা রুট দিয়ে চলাচল করত। ঢাকা থেকে কলকাতার এই রুটের মোট দূরত্ব প্রায় ৩৯২ কিলোমিটার। অনুমোদিত সময়সূচি অনুযায়ী, মৈত্রী এক্সপ্রেস ঢাকা স্টেশন থেকে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে বিকেল ৪টায় কলকাতায় পৌঁছাত। অর্থাৎ ঢাকা থেকে কলকাতা যেতে সময় লাগত ৭ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। ফিরতি পথে কলকাতার চিতপুর টার্মিনাল স্টেশন থেকে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ছেড়ে বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল; সময় লাগত ৮ ঘণ্টা ২৫ মিনিট।
তবে বাস্তবে বিভিন্ন কারণে ট্রেনের সময়সূচিতে বিলম্ব হতো। বিশেষ করে ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী ও দর্শনা পর্যন্ত রেলপথে চলাচলের সময়সূচি এবং বিভিন্ন অপারেশনাল সীমাবদ্ধতার কারণে যাত্রায় প্রায়ই ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পদ্মা সেতু হয়ে রেলের নতুন সম্ভাবনা : পদ্মা সেতু রেল সংযোগ চালুর পর ঢাকা থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-বেনাপোল রুটে ‘রূপসী বাংলা’ এক্সপ্রেস নামের একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে। ট্রেনটিতে এ রুটে যেতে সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা। এই অবকাঠামো ব্যবহার করেই মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতীয় পক্ষ। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ট্রেনটি ঢাকা থেকে যমুনা সেতু-ঈশ্বরদী-দর্শনা হয়ে কলকাতায় না গিয়ে পদ্মা সেতু-বেনাপোল হয়ে সীমান্ত পার হবে।