ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

২১ আশ্বিন ১৪৩৩

৭৭ ঝুঁকিপূর্ণ লেভেল ক্রসিং দুই বছরে নিহত ৭৪

প্রকাশ: ১০:৪৯, ৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫০, ৬ অক্টোবর ২০২৬

৭৭ ঝুঁকিপূর্ণ লেভেল ক্রসিং দুই বছরে নিহত ৭৪

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ৭৭ ঝুঁকিপূর্ণ লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ৫৬টিতে নেই গেটম্যান। এসব লেভেল ক্রসিংয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ১৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে বৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে ৯৯টি। এর বিপরীতে অবৈধ ক্রসিং ৭৭টি। আবার বৈধ ক্রসিংগুলোর ৫৬টিতেই নেই কোনো গেটম্যান। নতুন নির্মিত দোহাজারী-কক্সবাজার অংশেই নিরাপত্তার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। এ অংশে বৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে ৭২টি। অনেক স্থানে ট্রেন চলাচলের সময় যানবাহন ও পথচারীদের প্রবেশ ঠেকানোর জন্য কার্যকর ব্যারিয়ারও নেই। অথচ এই পথে চলছে দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেন। ফলে একদিকে ট্রেনের গতি ও সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-দোহাজারী অংশে বৈধ লেভেল ক্রসিং ২৭টি, অবৈধ ৪৭টি। দোহাজারী-কক্সবাজার অংশে বৈধ ৭২টি এবং অবৈধ ৩০টি। দুই অংশ মিলিয়ে অবৈধ ক্রসিং ৭৭টি। ইতোমধ্যে ২২টি অবৈধ ক্রসিং বন্ধ করা হয়েছে। আরো ৩৫টি বন্ধের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ট্রেনের গতি ও সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে আধুনিক যোগাযোগের নতুন দুয়ার খুলে দেওয়া এই রেলপথই ক্রমে পরিণত হচ্ছে প্রাণহানির ঝুঁকিপূর্ণ পথে। রেলওয়ে পুলিশের হিসাবে, ২০২৫ সালে এ রেলপথে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪৩ জনের। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরো ৩১ জন নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ গত দুই বছরেরও কম সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৭৪ জন। এর মধ্যে শুধু চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই নিহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ চালুর পর প্রায় তিন বছরের মধ্যে ১০১ জনের প্রাণহানি এবং একটি হাতির মৃত্যুর তথ্য সামনে এসেছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ২৭ জন, ২০২৫ সালে ৪৩ জন এবং ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে প্রাণহানির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরও সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার আগেই আরো ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতা থামেনি।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি সুজন কান্তি দে জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের কাঠগড় লেভেল ক্রসিংয়ে পর্যটক এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক আবদুস শুক্কুর ও যাত্রী আবু তাহের নিহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ লেভেল ক্রসিং পারাপার ও গেটম্যান নিয়োগের দাবিতে রেললাইন অবরোধ করেন। এর আগে ৩ জুন সাতকানিয়ার ঢেমশা এলাকায় কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে নুরুন্নাহার বেগম নিহত হন। লেভেল ক্রসিংয়ের নিরাপত্তাহীনতা শুধু প্রাণহানিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; ব্যাহত হচ্ছে পুরো রেল যোগাযোগ। ২১ সেপ্টেম্বর পটিয়ার একটি অননুমোদিত লেভেল ক্রসিংয়ে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে কয়েক ঘণ্টা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের দাবি, স্থানীয় লোকজন নিজেদের সুবিধার জন্য রেললাইনের ওপর দিয়ে এসব অবৈধ পথ তৈরি করেছেন। এসব পথে চলাচলের সময় অসতর্কতার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেছেন, রেললাইনে চলাচলের ক্ষেত্রে মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সচেতনতার অভাবেই মূলত অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নয়, বরং দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিং চিহ্নিত করে সেখানে গেটম্যান, ব্যারিয়ার, সতর্কসংকেত ও নিরাপদ বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করা জরুরি।

অন্যথায় ট্রেনের গতি বাড়বে, যাত্রীর সংখ্যা বাড়বে। কিন্তু রেললাইনের পাশে অপেক্ষা করবে একই পুরোনো ঝুঁকি। চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি সুজন কান্তি দে বলেন, রেলে যাতে প্রাণহানি কিংবা দুর্ঘটনা না ঘটে সে জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন