শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশ: ১১:০৯, ৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:১০, ৬ অক্টোবর ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
চীন, কিরগিজস্তান ও উজবেকিস্তানকে সংযুক্ত করতে নির্মাণাধীন রেলপথটি শুধু তিন দেশের মধ্যে নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করছে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশের মানুষের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার গল্প।
২০২৪ সালের শেষ দিকে প্রকল্পটির কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে চীনা ও কিরগিজ নির্মাণকর্মীরা পাশাপাশি কাজ করে আসছেন। বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে চীন ও মধ্য এশিয়ার প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞ এবং শ্রমিকরা একসঙ্গে কাজ করছেন।
তাদেরই একজন চীনা প্রকৌশলী ইয়াং ডং। রেলপথ নির্মাণে তাঁর রয়েছে ৪০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা। প্রকল্পের কারিগরি পরিচালক হিসেবে তিনি কিরগিজ নির্মাণকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও কাজের তদারকি করছেন।
অন্যদিকে, কিরগিজস্তানের জালাল-আবাদ অঞ্চলের ৩২ বছর বয়সী নির্মাণকর্মী জোলবোল্ডু কোরচুবায়েভ এই প্রকল্পে কাজের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক রেল নির্মাণের অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন।
শুরুতে নতুন যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যায় পড়েছিলেন কোরচুবায়েভ। একপর্যায়ে কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। তবে ইয়াং ডংয়ের কাছ থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা পাওয়ার পর ধীরে ধীরে দক্ষ হয়ে ওঠেন।
এখন তিনি রড ঝালাই, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরিচালনা এবং রেলপথ নির্মাণের প্রয়োজনীয় মান ও নিয়মকানুন সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করেছেন।
কোরচুবায়েভ বলেন, এই প্রকল্পে কাজ করা তাঁর জন্য শুধু একটি চাকরি নয়; বরং নতুন কিছু শেখা, দক্ষতা অর্জন এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ।
অন্যদিকে কিরগিজস্তানে কাজ করতে গিয়ে ইয়াং ডংকেও প্রচণ্ড ঠান্ডা আবহাওয়া ও ভাষাগত প্রতিবন্ধকতার মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন কোরচুবায়েভ।
দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে দুজনের মধ্যে তৈরি হয়েছে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব।
অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে রেলপথ
চীন-কিরগিজস্তান-উজবেকিস্তান রেলপথ চালু হলে শুধু যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকৌশলী ইয়াং ডংয়ের মতে, নতুন রেলপথ চীন ও কিরগিজস্তানের মধ্যে যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি রেলপথের আশপাশের গ্রাম ও শহরগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও বাড়তে পারে।
কোরচুবায়েভের আশা, রেলপথ চালু হলে পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে। এর ফলে নতুন কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
শুধু রেলপথ নয়, বন্ধুত্বেরও সেতু
চীন-কিরগিজস্তান-উজবেকিস্তান রেলপথ তাই শুধু একটি পরিবহন প্রকল্প নয়—এটি তিন দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতারও একটি নতুন সেতু হিসেবে সামনে আসছে।
ইয়াং ডং বলেন, এক বছরের বেশি সময় একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন দেশের নির্মাণকর্মীরা এখন একটি বড় পরিবারের মতো হয়ে উঠেছেন।
আর কোরচুবায়েভের মতে, যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে তিনি চীনা জনগণের অধ্যবসায় ও উদারতাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।
তাঁদের প্রত্যাশা, এই রেলপথ তিন দেশের জনগণকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসবে এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য ও সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
সূত্র: সিনহুয়া