ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

১৪ বৈশাখ ১৪৩৩, ১০ জ্বিলকদ ১৪৪৭

রেল সংকটে:

সিসিএস বিহীন ৬ সপ্তাহ , এডিজি (আরএস) এর কার্যক্রমেও ভাটা

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০:৩৩, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২০:৫৪, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

সিসিএস বিহীন ৬ সপ্তাহ , এডিজি (আরএস) এর কার্যক্রমেও ভাটা

 

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস) পদটি টানা ৬ সপ্তাহ(৪২ দিন)

ধরে শূন্য থাকায় সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। যন্ত্রাংশসহ জরুরি কেনাকাটার নানা প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) দপ্তরের কাজেও ভাটা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুত এ অবস্থার অবসান না হলে নিরাপদ ট্রেন চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কারণ ইঞ্জিন, কোচ ও সিগন্যালিং ব্যবস্থার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সময়মতো সংগ্রহ ও সরবরাহ না হলে মেরামত কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থা। প্রতিদিন লাখো মানুষ যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে রেলের ওপর নির্ভরশীল। এমন সময়ে কৌশলগত এই পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তর মূলত যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। একটি ট্রেন সচল রাখতে ইঞ্জিন, বগি ও অন্যান্য যান্ত্রিক সরঞ্জাম নিয়মিত মেরামত ও প্রতিস্থাপন করতে হয়। এসব কাজে সিসিএস দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া বড় ধরনের ক্রয়প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যায় না। ফলে চলমান অনেক ক্রয় কার্যক্রম এখন আটকে আছে।
সূত্র আরও জানায়, ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর বরাদ্দ প্রাপ্তি ও প্রশাসনিক জটিলতায় রেলের কেনাকাটা কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয়। এর প্রভাবে ২০২৫ সালে যন্ত্রাংশ সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। সে সময় বিভিন্ন স্থানে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রেন চলাচলে ব্যাপক সিডিউল বিপর্যয় ঘটে। সেই পরিস্থিতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও সিসিএস পদ শূন্য হয়ে পড়ায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি বেলাল হোসেন সরকার সিসিএস হিসেবে দায়িত্ব নেন। চলতি বছরের ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে পশ্চিমাঞ্চলের সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিওএস) মো. আনোয়ারুল ইসলামকে  চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং বেলাল হোসেন সরকারকে ওএসডি করে রেলভবনে সংযুক্ত করা হয়। পরে ২ এপ্রিল আগের আদেশ আংশিক বাতিল করে আনোয়ারুল ইসলামকে তার পূর্বের পদে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে সিসিএস পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এদিকে গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ফকির মো. মহিউদ্দিনকে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও সিসিএস না থাকায় তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যন্ত্রাংশ সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ট্রেন চলাচলে। ছোট ত্রুটিও সময়মতো মেরামত না হলে তা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই দ্রুত সিসিএস পদে নিয়োগ দিয়ে সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: ফাহিমুল ইসলাম রেলনিউজকে বলেন, সিসিএস পদ ফাকা নেই। যাকে (মি: আনোয়ার) অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো তাকে পূর্বের অবস্থানে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর যিনি (মি: বেলাল) সিসিএস এর দায়িত্বে ছিলেন তিনি তো রেলভবনে সংযুক্ত হননি। সেই হিসেবে তিনি পূর্বের পদেই বহাল আছেন। পদ ফাঁকা থাকার কোন প্রশ্নই ওঠে না।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন