ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

১৪ বৈশাখ ১৪৩৩, ১০ জ্বিলকদ ১৪৪৭

নাচোলে রেল গোডাউন ভাংচুর, লুটপাটের চেষ্টা, অরক্ষিত মালামাল

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫:৪৪, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

নাচোলে রেল গোডাউন ভাংচুর, লুটপাটের চেষ্টা, অরক্ষিত মালামাল

রবিবার ও সোমবার দুইদিন ধরে বিনা অনুমতিতে চিহ্নিত ব্যক্তিরা নাচোলের রেল গোডাউন ভাংচুর করে, মালামাল লুটপাটের চেষ্টা ব্যহত হয় জি আর পি এবং আর এন বির হস্তক্ষেপে। প্রশ্ন উঠেছে, গোডাউনের যায়গা কেনো বরাদ্দ দিলো রেলওয়ে? 

সুত্র জানায়, ২০১৯ সালের  বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশীর বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ মোঃ  আবদুর রহিম স্বাক্ষরিত  চিঠিতে উর্ধ্বতন উপ সহকারী প্রকৌশলী/পথ/আমনুরা এর অধীনে নাচোল ৩ নং গ্যাং এর রিলিজকৃত মালামাল সংগ্রহের জন্য গোডাউন তৈরির অনুমোদন দেয়া হয়। নাচোল স্টেশনের প্লাটফর্মের দক্ষিনে অবস্থিত পরিত্যক্ত (জেলা-চাপাইনবাবগঞ্জ, থানা-নাচোল, মৌজা-শ্রীরামপুর, জে এল নং-৭৫, বাংলাদেশ রেলওয়ে খতিয়ান নং-আর এস-০২, দাগ নং-আর এস ১২০/অংশ, ১২১/অংশ) পরিমান-১৮২৬৯ বর্গফুট জমিটি গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করার জন্য অনুমতি দেয়া হয়।

রেলওয়ের এসএসএই/ওয়ে পার্বতীপুর শেখ আল আমিন রেলনিউজকে বলেন, আমি যখন আমনুরাতে এসএসএই/ওয়ে পদে কর্মরত ছিলাম তখন কার এইএন/রাজশাহী এবং ডিইএন-২/পাকশী স্যারদের অনুমতি নিয়ে নাচোল প্লাটফর্ম এর পাশে রেললাইনের ব্যবহৃত মালামাল রাখার জন্য একটি অস্থায়ী গোডাউন তৈরী করা হয়েছিলো। 

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায় , দুই বছর আগে রেলওয়ের গোডাউন এর যায়গাটা অসাধু কিছু কর্মকর্তা 
মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গোডাউনটি লিজ দিয়ে দেয়। রেলওয়ের গোডাউন টি কাউকে কিছু না বলেই চার ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে ভেঙ্গে ফেলে ও মালামাল লুট করার চেষ্টা করে। পরে জি আর পি এবং  আর এন বির হস্তক্ষেপে মালামাল লুটপাটের চেষ্টা ব্যহত হয়।  কিন্তু মালামালগুলি এখনো অরক্ষিত অবস্থায় আছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলো শ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান ও মো মারুফ, দেওপাড়া গ্রামের মো খাইরুল এবং মোমিন পাড়ার বাইরুল।
অভিযুক্ত আব্দুল মান্নানকে ফোন দিলে মোঃ মারুফ ফোন ধরে, অভিযোগের বিষয়ে পরে ব্যাক করবে বলে আর ফোন ব্যাক করেননি। 
আমনুরার এসএসএই/ওয়ে (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বি এম বাকিয়াত উল্লাহ রেলনিউজকে বলেন আমি চার্জ নিয়েছি অল্প কয়েকদিন। তারা টিন খুলে ফেলেছে এবং স্লিপারগুলো সরিয়ে রাখছে বলে শুনেছি। কিন্তু আমাদের কারো সাথে যোগাযোগ করেনি। গোডাউনের মালামালের চার্জ আমি বুঝে নেইনি, তাই কি পরিমান মালামাল সরিয়েছে এটা বলতে পারছি না। সিনিয়রদের তথ্যটি জানিয়েছেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন জানিয়েছি। 

আমনুরা রেলওয়ে পুলিশ ফারির ইনচার্জ মো শফিকুল ইসলাম রেলনিউজকে বলেন, আমরা খবর পেয়ে ফোর্স নিয়ে যাই। আর এন বিও সাথে ছিলো। যারা এটি ভেঙ্গেছে তারা লিজ নিয়েছে এটা জানিয়েছে। কিন্তু রেলওয়ের কাউকে না জানিয়ে ভেঙ্গে তারা অপরাধ করেছে। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি কোন মালামাল যাতে বেহাত না হয়।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন