ঢাকা, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

১২ আষাঢ় ১৪৩৩

ট্রেনের ইঞ্জিনে অভিনব কৌশলে ১৬ কেজি গাঁজা পাচার: মাদক আইনে মামলা, আদালতের মাধ্যমে কারাগারে ট্রেনচালক

স্বপন কুমার সিং, বিশেষ সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৩:১৯, ২৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২৩:১৯, ২৬ জুন ২০২৬

ট্রেনের ইঞ্জিনে অভিনব কৌশলে ১৬ কেজি গাঁজা পাচার: মাদক আইনে মামলা, আদালতের মাধ্যমে কারাগারে ট্রেনচালক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে ট্রেনের ইঞ্জিনে অভিনব কৌশলে ১৬ কেজি গাঁজা পাচারের ঘটনায় ট্রেনের লোকোমাস্টার (চালক) মো. শাহজাহান মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, র‍্যাব-৯ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা নং-০৯ (তারিখ: ২৬ জুন ২০২৬) দায়ের করেছে। মামলার আনুষ্ঠানিকতা শেষে আটক চালককে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘৬০৩ আপ’ মালবাহী কন্টেইনার ট্রেনের ইঞ্জিনে তল্লাশি চালায় র‍্যাব-৯, সিপিসি-১ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে ইঞ্জিনের ভেতরে লুকিয়ে রাখা একটি বস্তা থেকে ৮টি প্যাকেটে মোট ১৬ কেজি গাঁজা এবং এক বোতল ভারতীয় এসকফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-৯ সিপিসি-১-এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরুন্নবী জানান, ট্রেনটি আখাউড়া স্টেশনে পৌঁছানোর পর চালককে তল্লাশির বিষয়টি জানানো হলে তিনি প্রথমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে অতিরিক্ত সদস্য এনে ইঞ্জিনে তল্লাশি চালিয়ে মাদক উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় সহকারী লোকোমাস্টার পালিয়ে গেলেও লোকোমাস্টার শাহজাহান মিয়াকে আটক করা হয়।

র‍্যাব সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক চালক মাদক পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তি ও সম্ভাব্য চক্রকে শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

অভিযান চলাকালে আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি আব্দুল কুদ্দুস, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)-এর ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, স্টেশন মাস্টার নুরুন্নবীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রেলওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন চালকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান। তদন্তের মাধ্যমে জড়িত পুরো মাদক পাচার চক্রকে আইনের আওতায় আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন