শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: ২১:৫৮, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:৫৮, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ এবং এ ঘটনায় ট্রেনের টিজি (ট্রেন গার্ড) দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
ঘটনার সার্বিক তদন্তে সার্কেল এএসপি দীন এ আলম প্রধান করে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টিজি পার্টির ইনচার্জসহ সকল সদস্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকশী রেলওয়ে জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোছা. সীমা বেগম (৪৪) গত ৩০ আগস্ট রাতে সিরাজগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভুল করে বিনা টিকিটে কুড়িগ্রামগামী কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ওঠেন। পরে ট্রেনের টিজি দলের সদস্যদের সন্দেহ হলে তাকে ট্রেনের ক্যান্টিনে নিয়ে ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে কোনো নিষিদ্ধ বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ট্রেনটি নাটোরের কাছাকাছি পৌঁছালে ওই নারী আবার ক্যান্টিনে গেলে ক্যান্টিন বয় আবু বকর সিদ্দিক তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ভুক্তভোগী তার ছেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে ছেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। এরপর পুলিশ ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিককে পার্বতীপুর রেলস্টেশন থেকে আটক করে সান্তাহার রেলওয়ে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে তার মাকে ধর্ষণের অভিযোগের পাশাপাশি দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তার জবানবন্দিতে তিনি ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তবে তার দাবি, ওই নারীই তাকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেছিলেন।
এ ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তদন্তে ধর্ষণের অভিযোগ, ট্রেনের ক্যান্টিনে ওই নারীকে নিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ নেওয়ার অভিযোগসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
পাকশী রেলওয়ে জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার মোহা: মেহেদী হাসান বলেন, “সংশ্লিষ্ট টিজি পার্টির ইনচার্জসহ সকল সদস্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কেউ অভিযুক্ত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।