সরকার দেশের প্রতিটি জেলাকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জমি অধিগ্রহণ, নতুন রেলপথ নির্মাণ, বিদ্যমান লাইনের সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শিরোনাম
মাহবুবুর রহমান মুন্না ব্যুরো এডিটর: বাংলা নিউজ ২৪ ডটকম
প্রকাশ: ০৩:১৬, ৯ আগস্ট ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সরকার দেশের প্রতিটি জেলাকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জমি অধিগ্রহণ, নতুন রেলপথ নির্মাণ, বিদ্যমান লাইনের সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তবে ট্রেনের ঝিক ঝিক শব্দ শুনতে মুখিয়ে আছেন খুলনা ও বাগেরহাটবাসী।
দুই জেলার বাসিন্দারা জানান, রূপসা-বাগেরহাট রেলপথ ছিল খুব জনপ্রিয় যোগাযোগের মাধ্যম। কিন্তু লোকসানের অজুহাত দিয়ে ১৯৯৮ সালে রেলের এই রুটটি বন্ধ করে দেয় তৎকালীন সরকার। জনপ্রিয় ওই রুট বন্ধ করে চালু করা হয়েছে খুলনা-মোংলা রেলপথ। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলার মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি পণ্য দ্রুত ও সাশ্রয়ীভাবে পরিবহন করা। তবে বাস্তবে সেই লক্ষ্য এখনো অধরা থেকে গেছে। নবনির্মিত ওই রেলপথে বর্তমানে মাত্র একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে। তবে পণ্যবাহী নিয়মিত কোনো ট্রেন নেই। এর ফলে ৪ হাজার ২৬১ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারেনি। এ অবস্থায় মানুষ ও নানা পণ্য আনা-নেওয়া সহজ করে তোলা সেই পুরোনো ঐতিহ্যবাহী রূপসা-বাগেরহাট রেলপথ চালু সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
বিশিষ্টজনরা বলেন, রূপসা-বাগেরহাট রেল যোগাযোগের সেই সব দিন এখন অতীত হয়ে গেলেও মনের জানালা খুলতেই বের হয়ে আসে ঝকঝকে দৃশ্যপট। রূপসা-বাগেরহাট রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, গোপালগঞ্জের বহু মানুষের জীবন-জীবিকার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ইংরেজ শাসকরা এ অঞ্চলের গুরুত্ব অনুধাবন করে সংক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্ন রেললাইনটি চালু করেছিলেন।
তারা বলেন, মাত্র ২০ কিলোমিটার রেললাইন করলে আবার রেল যোগাযোগ চালু করা সম্ভব। কাটাখালি থেকে মোংলা রেল যায়। সেখান থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার সংযোগ করলেই পুনরায় রেল যোগাযোগ সম্ভব। ভূমি অধিগ্রহণ আগে থেকেই করা আছে।
তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমান যে পরিকল্পনা আছে সেখানে এটি অন্তর্ভুক্ত নেই। আগামীতে পরিকল্পনা করা হলে এটি অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা আছে।
রূপসা-বাগেরহাট সেকশনের রেলপথের ইতিহাস
পরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম মূল স্তম্ভ রেলপথ। আর নিরাপদ যাত্রার জন্য একাল কিংবা সেকাল, কোনো কালেই রেলের বিকল্প ছিল না। যার কারণে ব্রিটিশ আমলে রূপসা-বাগেরহাট রুটে সহজ যাতায়াতে তৈরি করা হয় রেললাইন। এটি ছিল দেশের একমাত্র বিচ্ছিন্ন রেলপথ। দেশের মূল রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে এর কোনো সংযোগ ছিল না। ১৯১৬ সালে এই রেল রুটের নির্মাণকাজ শুরু হয়, নির্মাণ শেষ হয় ১৯১৮ সালে। ওই বছরের ১০ জুন থেকে ট্রেন চলতে শুরু করে। পূর্ব রূপসা ঘাট থেকে থেকে বাগেরহাট পর্যন্ত এই রেলপথের দূরত্ব ছিল ৩২ কিলোমিটার। ১৯৬৯ সালে এই লাইনকে ব্রডগেজে রূপান্তর করা হয়। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ সরকার লোকসানের কারণ দেখিয়ে রেলপথটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর ২০১২ সালে সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে এই রেলপথকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
রূপসা-বাগেরহাট রুটে যেসব স্টেশন ছিল
রূপসা-বাগেরহাট রেলপথটিতে মোট ১০টি স্টেশন ছিল। স্টেশনগুলো হলো—পূর্ব রূপসা রেলওয়ে স্টেশন, কর্ণপুর রেলওয়ে স্টেশন, সামন্তসেনা রেলওয়ে স্টেশন, বাহিরদিয়া রেলওয়ে স্টেশন, মূলঘর রেলওয়ে স্টেশন, খানজাহানপুর রেলওয়ে স্টেশন, যাত্রাপুর রেলওয়ে স্টেশন, ষাটগম্বুজ রোড রেলওয়ে স্টেশন, বাগেরহাট পি সি কলেজ রেলওয়ে স্টেশন ও বাগেরহাট রেলওয়ে স্টেশন।
যে কারণে বিলুপ্ত হয় রূপসা-বাগেরহাট রেলপথ
দেশের অন্যতম সচল ন্যারোগেজ রেলপথ হিসেবে রূপসা-বাগেরহাট রেলপথটি বিভিন্ন কারণে ভীষণভাবে আকর্ষণীয় ছিল। রূপসা-বাগেরহাট রেলপথ শুধু আঞ্চলিক যোগাযোগ মানচিত্রে সমৃদ্ধির দিক চিহ্ন নয়, এটি ছিল এ জনপদের উজ্জ্বল অতীত, সমৃদ্ধ পরম্পরা ও আলোকিত বৈশিষ্ট্যের স্মৃতিচিহ্ন। ১৯১৮ সালের ১০ জুন যখন এ পথে ট্রেন চলতে শুরু করে তখন খুলনার প্রান্তে পূর্ব রূপসা ঘাট থেকে এ রেলপথের দৈর্ঘ্য ছিল ৩২ কিলোমিটার, আর রেলস্টেশন ছিল ১০টি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টিটিদের দুর্নীতির কারণে সরকার এ রুট থেকে কোনো অর্থই পেত না। কোনো যাত্রী টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করে ৫০ পয়সা দিয়ে পার পেয়ে যেতেন, যে অর্থ টিটিদের পকেটে যেত। এমন পরিস্থিতিতে লোকসান দেখিয়ে ১৯৯৮ সালে রূপসা-বাগেরহাট রুট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০০৬-০৭ সালে রেলট্র্যাকসহ সব স্থায়ী-অস্থায়ী সম্পদ অপসারণ করা হয়। ২০১২ সালে সেসব সম্পদ নিলামে বিক্রি করে শাখা লাইনটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। রেলপথ বিলুপ্তির কারণও দেখানো হয় সেই লোকসান।
যে কারণে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, রেল কি এই লোকসানের থেকে আজও মুক্ত হতে পেরেছে?
বেদখলে রেলের জমি
নদী দখলের মতো ২৮ বছর ধরে অবৈধভাবে বেদখল হচ্ছে রূপসা-বাগেরহাট রেলের বিপুল পরিমাণ জায়গা। ইতোমধ্যে অনেক জায়গা পুরোপুরি বেদখল হয়ে গেছে। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালীরা এ দখল চালিয়ে যাচ্ছেন। ৩২ কিলোমিটার রেললাইনের অধিকাংশ জায়গা কাঁচা-পাকা স্থাপনা এবং অবৈধ দোকান, বস্তি এমনকি বহুতল ভবন বানিয়ে দখল করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বেদখল হয়েছে রূপসা রেলস্টেশনের জায়গা। তবে কোথাও কোথাও রেলওয়ের অধিগ্রহণ করা জমি লিজ দেওয়া হয়েছে।
হারানো ঐতিহ্যের মায়ায় যে দাবি তুলছেন এলাকাবাসী
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রূপসা-বাগেরহাট রেল রুটের সুবিধা কেবল খুলনা ও বাগেরহাটের মানুষই ভোগ করতেন না। বাগেরহাটের ট্রেনের সময়সূচি অনুযায়ী বাগেরহাট থেকে বরিশালগামী লঞ্চ ছাড়ত। ফলে বরিশালের মানুষও এর সুবিধা ভোগ করত। আবার খুলনা স্টেশনের ট্রেনের সময়সূচির সঙ্গে মিল রেখেও রূপসা-বাগেরহাটে ট্রেন চলাচল করত। ফলে এ রুটের সুবিধভোগী ছিল বেশ কিছু জেলা।
রূপসা রেলস্টেশন সংলগ্ন রহমতনগর গ্রামের বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক ইউসুফ আফেনদী বলেন, রূপসা-বাগেরহাট রেল যোগাযোগের সেই দিনগুলো এখন অতীত হয়ে গেলেও মনের জানালা খুলতেই বের হয়ে আসে ঝকঝকে দৃশ্যপট। রূপসা-বাগেরহাট রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, গোপালগঞ্জের বহু মানুষের জীবন-জীবিকার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ইংরেজ শাসকরা এ অঞ্চলের গুরুত্ব অনুধাবন করে সংক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্ন রেললাইনটি চালু করেছিলেন।
তিনি বলেন, খুলনা থেকে ট্রেন যাচ্ছে মোংলা, ঢাকা থেকে ট্রেন আসছে গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম থেকে ট্রেন যাচ্ছে কক্সবাজার–এসব এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। সারা দেশে রেল যোগাযোগের কাঠামো ও পরিধি বাড়ছে। আমরা রূপসাবাসী আশায় বুক বেঁধে আছি কর্তৃপক্ষ আমাদের ঐতিহ্যবাহী রূপসাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনবেন সেই আশায়।
পদ্মা পাড়ি দিয়ে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটাগামী ট্রেন যোগাযোগের সঙ্গে রূপসা-বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি হয়ে একটি সংযোগ বরিশালের সঙ্গে দেওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন এই কলেজ শিক্ষক।
বাগেরহাটের কাড়াপাড়া ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম তারেক বাংলানিউজকে বলেন, বাগেরহাটবাসীর কাছে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ট্রেন লাইন একটি আবেগ ও অনুভূতির জায়গা। জেলার সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে আধুনিক, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই ঐতিহাসিক রেলপথ পুনরায় চালুর জন্য সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাই।
তিনি আরও বলেন, রূপসা-বাগেরহাট রেললাইন একসময় এ অঞ্চলের মানুষের অন্যতম নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পরে রেললাইনও অপসারণ করা হয়। এরপর থেকে বাগেরহাটবাসী একটি নিরাপদ ও আরামদায়ক রেল যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। প্রতিদিন এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও চাকরির প্রয়োজনে যাতায়াত করেন। বর্তমানে সড়কপথের ওপর অতিরিক্ত চাপ, যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকির কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রেলপথ চালু হলে যাতায়াত আরও নিরাপদ, দ্রুত ও কম খরচে সম্ভব হবে। এছাড়া বাগেরহাটের বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ, সুন্দরবন ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ রেলপথ পুনরায় চালু হলে সেটি পর্যটন শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ব্যাংক কর্মকর্তা তারেক আরও বলেন, সম্ভবত ৯৯ অথবা ২০০০ সালের দিকে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাগেরহাট খান জাহান আলী মাঠে ঐতিহাসিক এক জনসভায় উপস্থিত ছিলেন। তখন বাগেরহাটবাসীর প্রাণের দাবি বাগেরহাট-রূপসার ট্রেন লাইন পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়। তিনি সেদিন আশ্বাস দিয়েছিলেন ট্রেন লাইন পুনরায় চালু করা হবে।
তিনি বলেন, রেললাইনটি চালু হলে পুনরায় জমি অধিগ্রহণেরও কোনো প্রয়োজন পড়বে না। সরকারি জায়গাগুলো এখন বেদখল, সেগুলোতে ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। জনস্বার্থে ও দক্ষিণাঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে রূপসা-বাগেরহাট রেলপথ দ্রুত চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সামিউল হক বাংলানিউজকে বলেন, বাগেরহাট-খুলনার মানুষের স্মৃতিতে মিশে আছে রূপসা-বাগেরহাট রেলপথ। এই পথ দিয়ে একসময় মানুষ কম খরচে যাতায়াত করত। লোকসান দেখিয়ে সে রুটের রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ বৈদেশিক ঋণ সহায়তায় নির্মিত খুলনা-মোংলা রেলপথ প্রকল্পের ট্রেনে না চলে যাত্রী, না হয় মালামাল পরিবহন। এমন বাস্তবতায় রেলওয়ের উচ্চপর্যায়ের ফিজিবিলিটি স্টাডি টিম সংশ্লিষ্ট রেললাইন ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করে দেখতে পারে জনপ্রিয় রূপসা-বাগেরহাট রুটের ট্রেন পুনরায় চালু করা যায় কি না।
দুই প্রান্তের দুই সংসদ সদস্য যা বলছেন
৩২ কিলোমিটার রেললাইনের এক প্রান্ত খুলনার রূপসা উপজেলায়। অপর প্রান্ত বাগেরহাট সদরে অবস্থিত। রূপসা এলাকার সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল এবং বাগেরহাট সদর এলাকার সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ। দুজনই ঐতিহাসিক এ রেললাইন পুনরায় চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন।
খুলনা-৪ সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের রূপসা-বাগেরহাট ট্রেন লাইন, এটা ছিল প্রাচীন ঐতিহ্য। রূপসা ঘাট থেকে, রূপসা ইস্ট প্রথম স্টেশন থেকে বাগেরহাটে ট্রেন যেত। কিন্তু গত ২৮ বছর ধরে এ রেললাইনটি বন্ধ হয়ে আছে। রেলের শত শত একর জমি পড়ে আছে। এখন রূপসা-মোংলা সড়ক দিয়ে বাগেরহাটের মানুষ যাতায়াত করে, যার ফলে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, এখানে যাত্রীবাহী ট্রেন ও মালবাহী ট্রেন চলাচলে ব্যবস্থা করা হোক। যেটা চালু হলে আমাদের রূপসা-বাগেরহাটে মানুষের জীবন যাত্রার মান এবং যাতায়াত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে। সরকারের রাজস্ব বাড়বে। আমরা যারা এখানে সংসদ সদস্য আছি তারা সরকারের কাছে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আবেদন করব, যাতে এ লাইনটি চালু করা হয়।
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বাংলানিউজকে বলেন, আমি নিজেও চাই রূপসা-বাগেরহাটের রেললাইনটা চালু হোক। সংসদে আমি এ বিষয়ে লিখিত প্রশ্ন করেছি। মন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন রূপসা-বাগেরহাট রেললাইনটি শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ছোট লাইন। আমি যখন পুরাতন জায়গায় একটি রেললাইন চালু হোক চেয়েছি, তখন তারা একটি টিম পাঠিয়ে স্ট্যাডি করেছে। তাদের স্ট্যাডি মোতাবেক তারা এ পথে নয়, অন্য পথে রেল রুট করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, বাগেরহাট বাদে ১০ জেলা যখন রেলের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়, এটার বিষয়ে আমি প্রশ্ন করেছি রেলমন্ত্রীকে। তিনি জানিয়েছেন যে ১০টি জেলায় রেললাইন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনো রেললাইন নেই। বাগেরহাট শহরে না থাকলেও মোংলায় রেললাইন রয়েছে। তখন আমি একটি ডিও লেটার দিয়েছি। যেটা তিনি স্বাক্ষর করেছেন। আমি মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পুরাতন লাইনে না হলেও নতুন একটি রেললাইন চেয়েছি। সেটা হলো, কাটাখালী হয়ে বাগেরহাট টাচ করে ফকিরহাটের একটা সাইড পাবে। এরপর মোল্লাহাট, গোপালগঞ্জ হয়ে ঢাকা। মূল জংশন হবে কাটাখালী। মন্ত্রী এটা গ্রহণ করেছেন এবং একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। আমার প্রথম পছন্দ পুরাতন লাইন। আমি সংসদে বলেছি, পুরাতন লাইনের অধিগ্রহণ করা জায়গা দখল হয়ে গেছে। শুধু পৌরসভার জায়গা ইজারা দেওয়া হয়েছে। বাকি সব জায়গা যে যার মতো দখল করে রেখেছে। এসব জমি রেল মন্ত্রণালয় কোনো কাজে লাগাতে পারে কি না, সে বিষয়ে আমি বলেছি। এটাও তারা চিন্তা করে দেখবে।
রেল কর্তৃপক্ষ যা বলছে
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যরা যদি দাবি তোলেন, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। রেল মন্ত্রণালয় গুরুত্ব বিবেচনা করে রূপসা-বাগেরহাট রুটে আবারও ট্রেন চালু করতে পারে।