ঢাকা, রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

১ ভাদ্র ১৪৩৩

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ক সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ১৯:০১, ১৫ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৯:০২, ১৫ আগস্ট ২০২৬

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ক সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

টেকসই প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার এবং টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আলোচনা সভা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

 

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) আয়োজিত এ কর্মসূচিটি বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্প “Integrated Approach Towards Sustainable Plastics Use and Marine Litter Prevention in Bangladesh”-এর আওতায় এবং জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (UNIDO)-এর কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশস্থ নরওয়ে দূতাবাস অর্থায়নে অনুষ্ঠিত হয় ।

 

কর্মসূচিতে বিডি ক্লিন ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৩৫০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী অংশ নেন। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, প্রকল্পের প্রতিনিধিবৃন্দ ও রেলওয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (ল্যাবরেটরি) মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার, উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউনিডো বাংলাদেশের ন্যাশনাল এক্সপার্ট মো. মাহবুবুল ইসলাম, বিডি ক্লিনের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর চম্পা আক্তার ও মাসুদুর রহমান এবং কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন।

 

উক্ত আলোচনা  সভা ও পরিচ্ছন্নতা অনুষ্ঠানটি দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ০৯:০০ ঘটিকায় বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। পরে স্টেশনের ভিআইপি গেটে সংলগ্নে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (ল্যাবরেটরি) মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক ও তরুণ অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ শুধু কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলেই সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; বিদ্যালয়, বাড়ি, কর্মস্থল ও নিজ নিজ সম্প্রদায় থেকেও এর সূচনা করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

তিনি বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্য ফেলার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হচ্ছে, নদী-নালা ও জলাশয় দূষিত হচ্ছে এবং এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত সাগরে গিয়ে সামুদ্রিক প্রতিবেশ ও খাদ্যশৃঙ্খলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। বন্ধ ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঙ্গে জলাবদ্ধতা ও বন্যারও সম্পর্ক রয়েছে। দেশের অন্যতম প্রধান যোগাযোগকেন্দ্র হিসেবে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সারাদেশে দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চর্চা ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হবে। তিনি বর্জ্য পৃথকীকরণ, যথাযথ সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

 

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পরিচ্ছন্নতাকে জনস্বাস্থ্য, মানুষের কল্যাণ ও জীবনমানের অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এটি মানুষের দৈনন্দিন আচরণ ও মানসিকতার অংশে পরিণত হওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ সালের পর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এটি চতুর্থ পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগ। ইউনিডো, বিডি ক্লিন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক সহযোগিতায় স্টেশনের পরিবেশ ও জনসচেতনতা আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে “পরিচ্ছন্নতা শুরু হোক আমার থেকে” নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান।

 

জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) বাংলাদেশের ন্যাশনাল এক্সপার্ট মো. মাহবুবুল ইসলাম কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি ঢাকার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনকে তিনি মানুষের হৃদপিন্ডের সাথে তুলনা করে বলেন প্রতিদিন অসংখ্য ট্রেন কমলাপুর থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে গমন করে। প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের ভেতরে নিয়মিত ঘোষণার মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো, যাত্রীদের নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য উৎসাহিত করা এবং সংগৃহীত বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

বিডি ক্লিনের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর চম্পা আক্তার বলেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীর চলাচল থাকায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন দায়িত্বশীলভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে যাত্রীরা নিজ নিজ এলাকাতেও একই ধরনের অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহিত হবেন।

 

কামালাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে “Clean Bangladesh, Clean Railway” উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তবে নির্ধারিত স্থানের বাইরে খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতলসহ যাত্রীদের ফেলে যাওয়া বিভিন্ন বর্জ্য এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যাত্রীদের দায়িত্বশীল আচরণে উৎসাহিত করতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

 

বক্তারা বলেন, কার্যকর প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারি সংস্থা, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, উন্নয়ন সহযোগী, পরিবেশবাদী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বর্জ্য কমানো, উৎসস্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণ, সঠিকভাবে বর্জ্য ফেলা, পুনঃব্যবহার, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য রিসাইক্লিং এবং ধারাবাহিক জনসচেতনতাকে এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবক ও সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মের আশপাশ এবং রেললাইনের উভয় পাশ ও মধ্যবর্তী অংশ পরিষ্কার করেন। অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য আনুমানিক (৬০টন) বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়, যার মধ্যে খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের ব্যাগ, স্ন্যাকসের প্যাকেট এবং অন্যান্য একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের সামগ্রী উল্লেখযোগ্য।

কর্মসূচিটি পরিবেশ সচেতনতা ও দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসারে দেশের গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহনকেন্দ্রগুলোকে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা ও টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহারকে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন