ঢাকা, রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

১ ভাদ্র ১৪৩৩

রেলওয়ের দুর্নীতি ও যাত্রী হয়রানি নিয়ে সাবেক অতিরিক্ত রেল সচিবের বিস্ফোরক মন্তব্য

প্রকাশ: ১৬:৩৯, ১৫ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৩৯, ১৫ আগস্ট ২০২৬

রেলওয়ের দুর্নীতি ও যাত্রী হয়রানি নিয়ে সাবেক অতিরিক্ত রেল সচিবের বিস্ফোরক মন্তব্য

বাংলাদেশ রেলওয়ের দুর্নীতি, উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য, যাত্রী হয়রানি এবং ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন সাবেক অতিরিক্ত রেল সচিব মো. মাহবুব কবির মিলন।

আজ (১৫ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে রেলওয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দেন তিনি।

মাহবুব কবির মিলন দাবি করেন, ঘুষ ও গ্রাহক হয়রানির পাশাপাশি রেলওয়ের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে বিপুল অঙ্কের কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য, এসব অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা ও পাচারের বিষয়ও রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৃষ্টির আড়ালে থেকে যায়।

রেল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কারিগরি জ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব। তিনি জানতে চান—রানিং স্পিড ও সেকশনাল স্পিডের পার্থক্য কী, কোচের পানির ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে, নতুন লাইন কমিশনের পর বেডিং অডিট করা হয়েছে কি না, লাইনে ব্যবহৃত পাথরের পুরুত্ব মেপে দেখা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয় কতটা নজরদারি করে।

এ ছাড়া ঈদের আগে প্রতিবছর কতগুলো কোচ মেরামত করে কোন কোন ট্রেনে যুক্ত করা হয়, পরবর্তী সময়ে সেসব কোচ কোথায় যায় এবং কোনো অনিয়মের ঘটনায় তদন্ত ও শাস্তির নজির রয়েছে কি না—সেসব বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রেল মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের একই ভবনে অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করেন মাহবুব কবির মিলন। তার মতে, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের একই ভবনে অবস্থান প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করে।

সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহনের বিষয়টিকে। রেলওয়ের কাছে তিনি তিনটি প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব চান—দেশের সব যাত্রীকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব রেল নিয়েছে কি না, ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহন সত্যিই বন্ধ করতে চায় কি না এবং ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যুবরণকারী যাত্রীদের দায় রেল নেবে কি না।

তিনি বলেন, রেল যদি ছাদে যাত্রী পরিবহন বন্ধ করতে চায়, তাহলে এমন ব্যবস্থা নেওয়া উচিত যাতে ট্রেনের ছাদে কেউ বসতে না পারে। অন্যদিকে ছাদে যাত্রী পরিবহন চলতে দিলে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং যোগ্য সন্তানদের রেলে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি।

পোস্টের শেষ দিকে মাহবুব কবির মিলন লেখেন, কেউ সুযোগ দিলে তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের ওপর একটি পিএইচডি করার চেষ্টা করতেন।

এ সময় তিনি নীলসাগর এক্সপ্রেসের একটি ভিডিওর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন, যেখানে ট্রেনের পানির ট্যাংক ব্যবহার করে এক যাত্রী কাপড় ধুচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সাবেক অতিরিক্ত রেল সচিবের এসব মন্তব্যের পর রেলওয়ের উন্নয়ন প্রকল্প, ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবা ও ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন