ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬

২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

সিঙ্গিয়া স্টেশনে জাহানাবাদ এক্সপ্রেসের দীর্ঘ বিরতি, ভোগান্তিতে খুলনাগামী যাত্রীরা

প্রকাশ: ২৩:৫৬, ৫ আগস্ট ২০২৬

সিঙ্গিয়া স্টেশনে জাহানাবাদ এক্সপ্রেসের দীর্ঘ বিরতি, ভোগান্তিতে খুলনাগামী যাত্রীরা

ঢাকা থেকে খুলনাগামী জাহানাবাদ এক্সপ্রেস সিঙ্গিয়া রেলস্টেশনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। নির্ধারিত সময়ে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করলেও পথে সিঙ্গিয়া স্টেশনে এসে দীর্ঘ বিরতিতে পড়ে ট্রেনটি। এতে ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীদের অনেকে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাত ৮টায় ঢাকা রেলস্টেশন থেকে খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে আসে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস। রাত আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে ট্রেনটি সিঙ্গিয়া স্টেশনে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছানোর পর দীর্ঘ সময় ট্রেনটি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
দীর্ঘ বিরতির কারণ জানতে স্টেশনে কর্মরত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। স্টেশনের কর্মীরা জানান, রেল ক্রসিংয়ের কারণে ট্রেনটিকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্টেশনে কর্মরত এক কর্মকর্তা জানান, ঢাকা থেকে কোনো ট্রেন দেরিতে ছেড়ে এলে পথে বিভিন্ন ট্রেনের চলাচলের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়। অন্যান্য ট্রেনের শিডিউল স্বাভাবিক রাখতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাহানাবাদ এক্সপ্রেসকে সিঙ্গিয়া স্টেশনে কিছু সময় অপেক্ষায় রাখা হয়।
যদিও এদিন জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে নির্ধারিত সময়েই খুলনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। ফলে নির্ধারিত সময়ে যাত্রা শুরুর পরও সিঙ্গিয়া স্টেশনে কেন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলো, তা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘ সময় ট্রেনের ভেতরে অপেক্ষা করতে হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করেন অনেক যাত্রী। বিশেষ করে রাতের যাত্রায় এমন অনির্ধারিত অপেক্ষা যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ তাদের।
জাহানাবাদ এক্সপ্রেসের যাত্রী সাহাবুদ্দিন বলেন, “এ ধরনের দীর্ঘ বিরতিতে ট্রেনের ভেতরে বসে থাকা আমাদের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য। দ্রুত এ বিষয়ে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
একই ট্রেনের আরেক যাত্রী আমিরুল জানান, তিনি নিয়মিত জাহানাবাদ এক্সপ্রেসে যাতায়াত করেন। এর আগেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আমিরুল বলেন, নিয়মিত যাতায়াতের কারণে ট্রেনটির চলাচল সম্পর্কে তার ধারণা রয়েছে। সিঙ্গিয়া স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। বারবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
যাত্রীদের অভিযোগ, আন্তঃনগর ট্রেনে নির্ধারিত সময় মেনে যাত্রা শুরু করার পরও মাঝপথে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলে পুরো যাত্রার সময়সূচি ব্যাহত হয়। এতে খুলনায় পৌঁছানোর পর যাত্রীদের পরবর্তী যাতায়াতসহ বিভিন্ন পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে ঠিক কী কারণে জাহানাবাদ এক্সপ্রেসকে সিঙ্গিয়া স্টেশনে এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে এবং এটি নিয়মিত ট্রেন ক্রসিং ব্যবস্থাপনার অংশ কি না—এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
যাত্রীদের দাবি, ঢাকা-খুলনা রুটের গুরুত্বপূর্ণ এই ট্রেনটির চলাচলে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোন স্টেশনে কী কারণে কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে, সে বিষয়ে যাত্রীদের দ্রুত ও পরিষ্কার তথ্য দেওয়া হোক।
একই সঙ্গে সিঙ্গিয়া স্টেশনে বারবার দীর্ঘ বিরতির অভিযোগ সত্য হলে এর কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। ট্রেন চলাচলের সময়সূচি ও ক্রসিং ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন বলে মনে করছেন যাত্রীরা।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন