শিরোনাম
মো. মোতাহার হোসেন সরকার (স্টাফ রিপোর্টার)
প্রকাশ: ২২:০৫, ২ আগস্ট ২০২৬
বারবার কোচ পরিবর্তনেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মেলেনি। যান্ত্রিক ত্রুটি, অতিরিক্ত ঝাঁকুনি ও কোচ সংকটে ভোগান্তির অভিযোগ যাত্রীদের। রেলের দাবি, নতুন কোচ যুক্ত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
রাজশাহী–পঞ্চগড় রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস চালুর সময় যাত্রীদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজশাহীর রেল যোগাযোগ সহজ করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং দেশের সর্বউত্তরের পর্যটন এলাকা বাংলাবান্ধায় যাতায়াত বাড়ানোর লক্ষ্যেই ২০২০ সালের ১৬ অক্টোবর ট্রেনটি চালু করা হয়। তবে চার বছরে চারবার কোচ পরিবর্তন হলেও কাঙ্ক্ষিত সেবার মান নিশ্চিত করতে পারেনি রেলওয়ে।
চালুর পর ট্রেনটি প্রথমে আন্তঃনগর ভ্যাকুয়াম কোচে পরিচালিত হয়। পরে ভারতীয় এলএইচবি কোচ, এরপর লাল-সবুজ পিটি ইনকা কোচ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি রূপসা ও সীমান্ত এক্সপ্রেস থেকে অবমুক্ত সাদা পিটি ইনকা কোচ বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসে সংযুক্ত করা হয়।
বর্তমানে এই সাদা পিটি ইনকা কোচ নিয়েই সবচেয়ে বেশি অভিযোগ। যাত্রীদের দাবি, কয়েকটি কোচে স্প্রিংসহ বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলার সময় অতিরিক্ত ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। পাশাপাশি কোচে অর্ধেক আকারের জানালা থাকায় গরমের সময় পর্যাপ্ত বাতাস প্রবেশ করে না। এতে দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিভিন্ন সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কোচ বাতিল হওয়ায় নির্ধারিত সংখ্যার পরিবর্তে কম কোচ নিয়ে ট্রেন পরিচালনা করতে হচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, পূর্ণাঙ্গ রেকে ট্রেনটি পরিচালনার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র পাঁচটি কোচ নিয়ে চলাচল করছে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কয়েকটি কোচ মেরামতের আওতায় থাকায় কয়েকটি স্টেশন থেকে টিকিট বরাদ্দও সাময়িকভাবে সীমিত রাখা হয়েছে।
নিয়মিত এক যাত্রী বলেন, "আগে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসে যাতায়াত অনেক স্বস্তিদায়ক ছিল। কিন্তু বর্তমান কোচে প্রায়ই অতিরিক্ত ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। কোচ সংকটের কারণে নানা ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে। আবার ছোট জানালার কারণে গরমের সময় ট্রেনের ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস পাওয়া যায় না। ফলে দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করা বেশ কষ্টকর হয়ে পড়ে। আগের মতো সেবা আর পাচ্ছি না।"
এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ রেল নিউজ ২৪-কে বলেন, "বাংলাবান্ধা, তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস—এই তিনটি ট্রেনই বর্তমানে পুরোনো কোচে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের অবস্থাই সবচেয়ে নাজুক।"
তিনি জানান, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত কোচগুলো মেরামতের কাজ চলছে। ভারত থেকে নতুন কোচ আসার পর কিছু কোচ সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেসের তুলনামূলক ভালো কোচগুলো মেরামত করে ধাপে ধাপে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কোচ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কয়েকটি কোচ সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। মেরামতের কাজ শেষ হলে সেগুলো দ্রুত ট্রেনে যুক্ত করা হবে।"
অতিরিক্ত ঝাঁকুনির বিষয়ে তিনি বলেন, "স্প্রিংসহ কয়েকটি যান্ত্রিক সমস্যার কারণে কিছু কোচে ঝাঁকুনি বেশি অনুভূত হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। যাত্রীদের আরও দুই থেকে তিন মাস কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে। নতুন কোচ হাতে পেলেই ধাপে ধাপে কোচ পরিবর্তনের কাজ শুরু করা হবে।"
চার বছরে একাধিকবার কোচ পরিবর্তন হলেও কাঙ্ক্ষিত সেবার মান এখনো নিশ্চিত করা যায়নি বলে মনে করছেন অনেক যাত্রী। তবে রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন কোচ যুক্ত হলে বর্তমান সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এই রুটের নিয়মিত যাত্রীরা।