ঢাকা, রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬

১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

কর্ডলাইন হলে ৮০ কিলোমিটার কমবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ: রেল প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ০২:৫৬, ২ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০২:৫৬, ২ আগস্ট ২০২৬

কর্ডলাইন হলে ৮০ কিলোমিটার কমবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ: রেল প্রতিমন্ত্রী

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন কর্ডলাইন নির্মাণের মাধ্যমে এ রুটের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন কর্ডলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রার সময় প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট কমে আসবে।

শনিবার (১ আগস্ট) চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান তিনি।

হাবিবুর রশিদ বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যাত্রীসেবা আরও উন্নত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন কর্ডলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রেলপথের দূরত্ব কমার পাশাপাশি যাত্রীদের সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমবে।

 

তিনি আরও বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ। এ রুটে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত, নিরাপদ ও আধুনিক করতে রেলের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জাানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এ রুটে চার জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় তা বাড়িয়ে পাঁচ জোড়া করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার এবং কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে পাঁচটি করে ট্রেন চলাচল করবে। কক্সবাজার রুটের প্রবাল ও সৈকত এক্সপ্রেস ট্রেনের সেবায় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই এ পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণে পরিবেশের ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটা হয়েছিল। এর পরিবর্তে যে গাছ লাগানো হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোথাও বনায়নের ঘাটতি থাকলে রেল, বন বিভাগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে নতুন করে সামাজিক বনায়ন করা হবে।

হাবিবুর রশিদ বলেন, রেললাইন নির্মাণের কারণে পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারের বনায়ন কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

রেলের সম্পত্তি লিজ দেওয়া প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার নতুন করে কোনো রেল সম্পত্তি লিজ দেবে না। বর্তমানে যেসব লিজ রয়েছে, সেগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেসব লিজ বাতিলযোগ্য এবং যেখানে আইনি জটিলতা নেই, সেগুলো বাতিল করে রেলের সম্পত্তি ফিরিয়ে নেওয়া হবে। রেলের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে রেলের জমি প্রয়োজনীয় ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

রেলের বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। রেলের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দলীয়করণের কোনো সুযোগ নেই। এরপরও কোথাও কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলপথে মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে হাবিবুর রশিদ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সারাদেশে অভিযান চলছে। মাদকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কেউ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রেলসহ দেশের সব খাতে মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন