ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬

১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

পরশুরাম রেলওয়ের জায়গা অনিয়ম করে ভরাট করার অভিযোগ ঠিকাদার তাজুলের বিরুদ্ধে

প্রকাশ: ১৩:০৮, ৩ আগস্ট ২০২৬

পরশুরাম রেলওয়ের জায়গা অনিয়ম করে ভরাট করার অভিযোগ ঠিকাদার তাজুলের বিরুদ্ধে

পরশুরামে বাংলাদেশ রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত সরকারি জলাশয় ভরাট করে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগে স্থানীয় ঠিকাদার তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরশুরাম থানায় এফআইআর গ্রহণের আবেদন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। 

 

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

 

রেলওয়ের দাখিল করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রামের অধীন ৩১ নম্বর ফেনী কাচারীর আমিন মো. সলিম উল্লাহ চৌধুরী অভিযোগটি দায়ের করেন। এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে পরশুরাম উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে তাজুল ইসলামকে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার কোলাপাড়া এলাকায় রুহুল আমিন মজুমদার বাড়ির সামনে রেললাইনের পশ্চিম পাশে কলেজ রোড সংলগ্ন বাংলাদেশ রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত প্রায় ০.২৩ একর লাইসেন্সকৃত জলাশয় ভূমিতে গত ১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি ভরাট করে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের কাজ চালানো হচ্ছে। সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার দাবি করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হলেও জলাশয় ভরাটের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। এতে সরকারি জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সরকারি ভূমির অবৈধ শ্রেণি পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ওই স্থানে দোকানঘর নির্মাণের পরিকল্পনার তথ্যও রেলওয়ের নজরে এসেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় সরকারি জলাশয় ভরাট বন্ধ, সরকারি ভূমি দখল ও শ্রেণি পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এফআইআর গ্রহণের জন্য পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে আবেদন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

 

এদিকে, অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকে প্রচলিত বিভিন্ন অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত প্রায় ১৭ বছরে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার গিলে খেয়েছেন সরকারি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা, গড়েছেন ব্যাংক ব্যালেন্স ও অর্থসম্পদ এবং তার  অনিয়মের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ থাকলেও সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়নি আজ‌ও।

 

স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, ২০২৪-২৫ সালের বন্যার পর বাঁধ সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজে বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার হয়নি। তারা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর ব্যয়, কাজের মান, বিল উত্তোলন এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। 

 

একই সঙ্গে একজন ঠিকাদারের সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, সরকারি জমি ব্যবহারের বৈধতা এবং বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তার ভূমিকা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

 এ বিষয়ে তাজুল ইসলাম বলেন,কৃষি চাষাবাদের জন্য আমি রেলওয়ে থেকে এই জমি ইজারা নিয়েছি। গত ৪০ বছর ধরে এই জমির খাজনা দিয়ে আসছি, তাই আমি মাটি ভরাট করছি রেলওয়ের এই জমিতে। মাটি ভরাটের বিষয়ে রেল কতৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোন অনুমতি নেইনি আর আমি অনুমতি নিবো কেন এটাতো আমার নামে ইজারা আছে। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করেছেন কিনা চানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোন রেল ওয়ের কোন শর্ত ভঙ্গ করিনি।

 

পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আশ্রাফুল ইসলাম জানান,এখনও অভিযোগ পাইনি।রেলওয়ে বিভাগের আলাদা থানা রয়েছে। অভিযোগ পেলে রেলওয়ে থানাকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করব।

 

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকারি সম্পত্তি দখল, জলাশয় ভরাট কিংবা সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ—যার বিরুদ্ধেই উঠুক না কেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে সরকারি সম্পদ রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন