ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

বেহাল আহসানগঞ্জ রেলস্টেশন, রোদ-বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯:০২, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০৯:০৩, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেহাল আহসানগঞ্জ রেলস্টেশন, রোদ-বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে চরম জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে শেডের ফুটো টিন দিয়ে গড়িয়ে পড়ে পানি, নেই পর্যাপ্ত আলো ও ফ্যানের ব্যবস্থা। যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে বসার আসন না থাকায় রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়েই পার করতে হয় দীর্ঘ অপেক্ষার সময়। যাত্রীদের সেবার মান আধুনিকায়নসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে স্টেশনটি থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বহুগুণ বাড়বে বলে দাবি স্থানীয়দের।

আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনটি আত্রাই উপজেলাবাসীর জন্য যোগাযোগের লাইফলাইন। এ স্টেশনটি ঐতিহ্যবাহী একটি স্টেশন। বর্তমানে স্টেশনটিতে একটি প্লার্টফর্ম এবং একটি প্রধান লাইন বিদ্যমান। সিঙ্গেল লাইন হবার কারণে সকল ট্রেনের ক্রসিং আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন হতে ১ কিলোমিটার দূরে আত্রাই রেলওয়ে স্টেশনে হয়ে থাকে। তবে আত্রাই রেলওয়ে স্টেশনে কোনো ট্রেনের যাত্রা বিরতি নেই। শুধু ট্রেন ক্রসিং কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে। প্লাটফর্মে যাত্রীদের বসার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বৃষ্টি হলে প্লাটফর্ম জুড়ে পানি, মেঝের ইট উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি ও প্লাটফর্ম থেকে ট্রেন লম্বা হওয়ার বিড়ম্বনাসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত এই রেলওয়ে স্টেশন। দীর্ঘদিন থেকে স্টেশনের প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ না করায় এখানে যাত্রীসেবা এখন শূন্যের কোঠায়।

 

আবার ছোট এই প্লার্টফর্মে বসানো হয়েছে বিভিন্ন দোকানপাট। এছাড়া রেললাইন ঘেষে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে গড়ে উঠেছে দোকানপাট। এতে স্টেশনে ট্রেন আসার পর উঠা-নামা করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় যাত্রীদের।

স্থানীয় বাসিন্দা কফিল উদ্দিন মোল্লা বলেন, প্রতিদিন এ স্টেশন থেকে শত শত যাত্রী ট্রেনযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করে। দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার না হওয়ায় স্টেশনটির জরাজীর্ণ অবস্থা। টিনগুলোতে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই প্লার্টফর্মে পানি পড়ে। ফ্যান না থাকায় গরমে অস্বস্তি পোহাতে হয়। যাত্রীরা বসে থাকতে পারেন না। এমনকি রাতেও ঠিকমতো জ্বলে না লাইট। বিশেষ করে ট্রেন যখন বিলম্বে চলাচল করে তখন মহিলা ও শিশুদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

আব্দুস সালাম ও নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন বলেন, স্টেশনের বুকিং সহকারী সুব্রত কুমার আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্লার্টফর্ম ও স্টেশন চত্বরে দোকান বসানো এবং স্টেশনের জায়গায় অবৈধভাবে দখলের সুযোগ করে দিয়েছেন। এতে স্টেশনে ট্রেন আসার পর উঠা-নামা করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় যাত্রীদের। প্লার্টফর্মে বসার জায়গা না থাকায় দীর্ঘ সময় যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। পাশেই মাছের আড়ৎ থাকায় দুর্গন্ধে যাত্রীরা দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না।

আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের বুকিং সহকারী সুব্রত কুমার অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে দোকানপাট বসার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, স্থাপনাগুলো অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হয়। আবারও তারা স্থাপনা করে দোকান বসায়। তবে প্লার্টফর্মে অস্থায়ী কিছু দোকান বসে অল্প সময়ের জন্য।

আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মমিন উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, রুপসা, তিতুমীর, নীলসাগর, দ্রুতযান ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেসসহ ১৪টি ট্রেন আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে আপ-ডাউন করে। আর মোট ৩২টি ট্রেন এ লাইনের ওপর দিয়ে চলাচল করে। আত্রাই এবং আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনটি এক করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে তা কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন