শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫:০৬, ১০ মার্চ ২০২৬
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলা পুলিশ মাসব্যাপী বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার তহুরা জান্নাতের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এজন্য চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বিভিন্ন পয়েন্ট যাত্রীদের মাঝে সচেতনতা করা হয়।
রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে ট্রেনে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধ, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধ, অজ্ঞান ও মলম পার্টির তৎপরতা দমন এবং যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ প্রতিরোধে রেলওয়ে পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিট পুলিশিং কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ রেললাইন ও স্টেশন এলাকায় পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে ট্রেনের নিরাপত্তা, রেললাইন পারাপারে সতর্কতা এবং চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে।
রেলপথে যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম সম্পর্কে রেলওয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পাবে। তাই যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে রেলওয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে।
এদিকে যাত্রীরা টিকিট কালোবাজারি রোধেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। জসিম নামে এক চাকরিজীবী বলেন, “ঈদের সময় অনলাইন ও অফলাইনে টিকিট কালোবাজারিদের তৎপরতা বেড়ে যায়। অনেক সময় ওয়েবসাইট হ্যাক করে বা অসাধু উপায়ে টিকিট সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রি করা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।”
রেলের যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা