শিরোনাম
মো: মোতাহার হোসেন সরকার( স্টাফ রিপোর্টার)।
প্রকাশ: ১০:১৩, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোর বিলম্ব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে, যার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিভিন্ন রুটে ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় গতি সীমা কমানো হলেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সময়সূচিতে, আর ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
গত এক সপ্তাহের চিত্রে দেখা যায়, পঞ্চগড়গামী সেমি ননস্টপ পঞ্চগড় এক্সপ্রেস (৭৯৩) প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিলম্বে চলেছে। একইভাবে দ্রুতযান এক্সপ্রেস (৭৫৭) ২ থেকে ৩ ঘণ্টা এবং একতা এক্সপ্রেস ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছেছে। অনেক ক্ষেত্রে বিলম্ব আরও বেশি হচ্ছে।রেলওয়ে সূত্র জানায়, উত্তরাঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেকশনে ট্রেনের গতি ৯০ কিলোমিটার থেকে কমিয়ে ৫০–৭০ কিলোমিটারে নামিয়ে আনা হয়েছে। মুলাডুলি–চাটমোহর, শরৎনগর–লাহিড়ী, আব্দুলপুর–নাটোর, নাটোর–মধনগর, আত্রাই–রানীনগরসহ বিভিন্ন রুটে এই গতি সীমা কার্যকর রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ট্রেন চলাচলে উল্লেখযোগ্য ধীরগতি দেখা দিচ্ছে।
বিভাগীয় প্রকৌশলী-২, পাকশী নাজিব কায়সার জানান, রেললাইনের সক্ষমতার তুলনায় বেশি ট্রেন চলাচল এবং স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গতি কমানো ছাড়া বিকল্প ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে তার দাবি, শুধুমাত্র গতি কমানোর কারণে বড় ধরনের বিলম্ব হওয়ার কথা নয়।যদিও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। যাত্রীরা বলছেন, ৩০–৫০ মিনিট বিলম্ব মেনে নেওয়া গেলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেরি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনেকে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে বিকল্প যানবাহনের দিকে ঝুঁকছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি সেকশনে সময় বেশি লাগবে, যা সামগ্রিকভাবে বড় বিলম্বে রূপ নেয়। এর সঙ্গে ক্রসিং, সিগন্যাল জটসহ অন্যান্য কারণ যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে।
এদিকে, লাহিড়ী মোহনপুর থেকে ঈশ্বরদী বাইপাস পর্যন্ত রেললাইন সংস্কারের কাজ চলমান থাকলেও তা শেষ হতে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এছাড়া সান্তাহার ও বিরামপুর অঞ্চলের কিছু প্রকল্প এখনো শুরু না হওয়ায় দ্রুত উন্নয়ন অনিশ্চিত রয়ে গেছে।যাত্রীরা দ্রুত রেললাইন সংস্কার ও গতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে মানুষ ধীরে ধীরে রেলপথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, যা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবহন খাতের জন্য বড় সংকট হয়ে দাঁড়াতে পারে।